
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
শরীয়তপুরের জাজিরায় প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তানদের বাড়িছাড়া করতে ঘরে থাকা আসবাবপত্র বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আপন দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসীর বড় মেয়ে উম্মে হাবিবা (২১) বাদী হয়ে তার আপন দুই চাচা ও তাদের সহোযোগিতা করায় আরও দু’জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী মালেশিয়া প্রবাসী হালিম শিকদার (৪২) উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের আইজদ্দিন শিকদার কান্দি গ্রামের মৃত আবুল হাসেম শিকদারের ছেলে। অভিযুক্তরা তারই আপন দুই সহোদর সোবহান শিকদার (৫০) ও পারভেজ শিকদার (৩৮)। এছাড়া এদের সহোযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে তারই চাচাতো ভাই মোক্তার শিকদার (৩৬) ও স্থানীয় ফরজ মাদবরের ছেলে চানমিয়া মাদবর (৩২) এর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী হালিম শিকদারের বসত ঘর’টি পৈতৃক। দীর্ঘদিন ধরে এই ঘরটিতে স্বপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। জীবিকার তাগিদে হটাৎ মালেশিয়া চলে যাওয়ার পর থেকেই তার ভাইয়েরা বাড়িটির ভাগ চাইতে থাকেন। এরই সূত্র ধরে গত ৪-এপ্রিল (শনিবার) সকালে প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রী সন্তানদের বাড়িছাড়া করতে ঘরে থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ, পানির মটোর, ফ্যান, বৈদ্যুতিক মিটার, তারসহ রান্নাঘর এমনকি পুকুরের চাষ করা মাছ পর্যন্ত বিক্রি করে দেন তার ভাইয়েরা।
ঘটনার পর জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। থানায় মামলা না নিলে জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে দুই চাচাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন প্রবাসী বড় মেয়ে উম্মে হাবিবা।
উম্মে হাবিবা বলেন, এই বাড়িটি আমাদের। জন্মেরর পর থেকে এই বাড়িতেই আমরা থাকছি। চাচারা আলাদা বাড়িতে থাকেন। আমার বাবা মালেশিয়া যাওয়ার পর থেকে আমাদের বাড়িছাড়া করতে সব ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। সবশেষ এমন কাজটি করেছে তারা। আমাদের টিউবওয়েল পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। রান্নাঘও নিয়ে গেছে। বাবার অবর্তমানে বাড়িতে এলে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি। আমরা এর বিচার চাই।
নাম নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির আসবাপত্র ও রান্নাঘর বিক্রির বিষয়’টি নিশ্চিত করেন। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরেই হালিমের ভাইয়েরা এমনটি করেছে। হালিম মালেশিয়া থাকায় তার পরিবার বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন। তারা যেনো বাড়িতে না আসতে পারে, তাই এমনটি কতে পারে বলে ধারণা তাদের।
এদিকে ঘটনার বিষয় জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
মামলার বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শাহিন মিয়া জানান, বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন (আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ) দিয়েছেন।