
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী,
নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকায় সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন জলঢাকা বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের (জেবিএমআই) নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্ধারিত শর্ত ও নির্মাণবিধি উপেক্ষা করে ঈদুল আজহার আগের রাতে গভীর মধ্যরাতে ভবনের গুরুত্বপূর্ণ আরসিসি কলাম (পিলার) ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের উপস্থিতি ছাড়াই অন্ধকারে পরিচালিত এ কাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে কলেজটিতে চারতলা ভিত্তি বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ পেয়েছে চট্টগ্রামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে স্থানীয় ভাবে সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদের আগের দিন গভীর রাতে কোনো ধরনের পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ছাড়াই ভবনের মূল কাঠামোর কলাম ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে মিক্সার মেশিনের শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, অপ্রতুল আলোয় শ্রমিকরা দ্রুতগতিতে ঢালাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ সেখানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি ছিল না। সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি নির্মাণ কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হচ্ছে কলাম ঢালাই। সেই কাজ যদি রাতের আঁধারে, প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হয়, তাহলে নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের আলোতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যে কাজ হওয়ার কথা, সেটি গভীর রাতে গোপনে করার প্রয়োজন কেন?
ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত প্রধান মিস্ত্রি আমিনুর রহমান রাতের বেলায় কাজ করার বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি কখনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্দেশ, আবার কখনো কলেজ কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশনার কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আজিজার রহমান বলেন, বিষয়টি পরে জেনেছি। অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সবুজ হোসেন বলেন, আরসিসি ঢালাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রকৌশলগত তদারকি ছাড়া করার সুযোগ নেই। দিনের আলোতে এবং আমাদের উপস্থিতিতে এ ধরনের কাজ সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। মধ্যরাতে অন্ধকারে ঢালাই করার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণ নীতিবহির্ভূত। এ বিষয়ে কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতি, রাতের আঁধারে ঢালাই কাজ এবং তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার প্রবণতা পুরো প্রকল্পের মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। তারা অবিলম্বে নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই, ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন-যদি সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে, তবে গুরুত্বপূর্ণ কলাম ঢালাইয়ের মতো কাজ দিনের পরিবর্তে গভীর রাতের অন্ধকারে কেন সম্পন্ন করা হলো?