
শফিকুজ্জামান সোহেল
রংপুর জেলা প্রতিনিধি
রংপুর নগরীর খামার মোড় এলাকায় একটি হোটেলে বাসনপত্র রাখার স্থানে পানের পিক ফেলাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে এক কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শাওন (২৪) লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নূরের চক গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে আটক করে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবি হেফাজতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে মিজানুর রহমান মনু বলেন, ‘প্লেট-বাসন যেখানে আমি রাখি, ওইখানে টিস্যুও থাকে। ওইখানে পানের পিচকি (পিক) ফেলায় কলিজায় আঘাত লাগে। তখনই আমি ওই কাজটা করে ফেলি। হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করছি।’
পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে তাকে প্রায় আধাঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমান মনু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার বাবা আমির হোসেন বলেন, ‘ওর মানসিক সমস্যা আছে। একসময় তাকে তাবলিগে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে আসার পর সমস্যা আরও বেড়ে যায়। পরে সে মার্কাজ মসজিদে ছিল। সেখানে ঝাড়ফুঁকসহ নানা ধরনের চিকিৎসা করানো হয়েছে। এখনও মাঝেমধ্যে তার মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকে না।’
রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের জানান, খামার মোড় এলাকায় ফুটপাতে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করেন আমির হোসেন ও তার তিন ছেলে। সেখানে শাওন কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মিজানের সঙ্গে শাওনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজান হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথার পেছনে দুই থেকে তিনটি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের কাছেই গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
অভিযুক্তের মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়ে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, সেটি চিকিৎসকই বলতে পারবেন। তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন বা চিকিৎসাধীন—এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। প্রায় আধাঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত মনে হয়নি।’