শাহেদ আহমেদ, সাতক্ষীরা
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সাতক্ষীরা দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ ক্ষমতা দখল, জবাবদিহিতাহীন একনায়কতন্ত্র, অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যক্তি—মাওলানা মইনুদ্দীন ও তার চার সিন্ডিকেট সদস্যকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে”—এই স্লোগানে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, একটি মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিতভাবে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর মাওলানা মইনুদ্দীন ধাপে ধাপে পাঠদান, ক্যাশিয়ার, বোর্ডিং সুপার, নায়েবে মোহতামিম ও কার্যকরী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব এককভাবে দখল করে ক্ষমতার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ভিন্ন ভিন্ন খাত থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন।
বক্তারা অডিট প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন যে, ত্রুটিপূর্ণ বিল দাখিলের মাধ্যমে ১৮ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়েছে এবং উক্ত বিল পাশ করানোর জন্য ৭৪ হাজার টাকা উৎকোচ/ঘুষ প্রদান করা হয়েছে বলে খরচ দেখানো হয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে; এছাড়া অবশিষ্ট প্রায় ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ব্যয়ের সঠিক হিসাব অডিট প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন যে, মাদ্রাসার আসবাবপত্র ক্রয় খাতে ১১ লক্ষ ২৪ হাজার ১৪৯ টাকার ব্যয়ের বিপরীতে কোনো অনুমোদিত ভাউচার অডিট টিম খুঁজে পায়নি এবং মালামালের কোনো রেজিস্টার বা স্টক রেজিস্টার সংরক্ষিত নেই, যা আর্থিক অনিয়মের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
নির্মাণ খাতে ১ কোটি ২৪ লক্ষ ৮ হাজার ৮৩৮ টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অসংগতি ও অসম্পূর্ণ ভাউচারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৬৬ লক্ষ ৯১ হাজার ৮৩১ টাকা ব্যয়ের কোনো যথাযথ অনুমোদন বা স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া যায়নি বলে বক্তারা দাবি করেন।
এছাড়া বোর্ডিং ব্যয় বাবদ ২ কোটি ১৭ লক্ষ ৫৯ হাজার ৩৬৭ টাকা খরচ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট ক্রয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন ও যাচাইয়ের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে এবং আত্মীয়-স্বজনের নিকট থেকে ক্রয়কৃত মালামালের বিল নিজেই অনুমোদন করার অভিযোগও তোলা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী ও শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর এই প্রতিষ্ঠানে একটি স্বজনপ্রীতিনির্ভর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ-বহিষ্কার, আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন, ভন্ডামিমূলক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, নৈতিক অবক্ষয় ও দমনমূলক পরিবেশ বিরাজ করছে।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে মাওলানা মইনুদ্দীন ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং প্রতিষ্ঠানে সুশাসন ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং পরিচালনা করেন জিল্লুর রহমান; এতে বক্তব্য রাখেন নাঈমুর রহমান, মুজিবুর রহমান, খাজা নাজিম উদ্দিন, আবু তাহের, নজরুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, আঃ সালামসহ অন্যান্যরা।
কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।