
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী,
নীলফামারী
একটি হলেও বৃক্ষরোপণ করবো জনে জনে, সবুজ দেশের সুস্থ বাতাস লাগুক সবার প্রাণে, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর জলঢাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমধর্মী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। কর্মসূচির অংশ হিসেবে পথচারী, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড় শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করা হয়। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে নীলফামারী জেলা ছাত্রশিবিরের সার্বিক আয়োজনে এবং জলঢাকা উপজেলা ছাত্রশিবিরের ব্যবস্থাপনায় পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট মোড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ব্যবসা শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রেজাউল করিম রাজু, জেলা সেক্রেটারি আতিকুজ্জামান আতিক, জলঢাকা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মনোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি মিঠু ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বক্তারা বলেন, বৃক্ষ প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ। একটি গাছ যেমন মানুষের জন্য বিশুদ্ধ অক্সিজেনের উৎস, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয়রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তারা প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান এবং বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।কর্মসূচিতে পথচারী, রিকশা ও ভ্যানচালকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।আয়োজকরা জানান, শুধু চারা বিতরণ নয়, পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সবুজায়নের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এ সময় গাছের চারা গ্রহণকারী স্থানীয় ভ্যানচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে শুধু একটি গাছই দেওয়া হয়নি, বরং পরিবেশ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ মানুষকে বৃক্ষরোপণে আরও উৎসাহিত করবে, সবাই যদি অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নির্মল ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি আয়োজকদের এমন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।