সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আ’ট’ক পাঁচবিবিতে ওসির অ’ভি’যা’নে মা’দ’ক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬০ বোতল ফা’য়া’র’ডি’ল উ’দ্ধা’র কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অ’ভি’যা’নে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উ’দ্বা’র কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অ’ভি’যা’নে ২৩৫০ ভারতীয় বাজিসহ গ্রে’প্তা’র-১৬ ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে দলীয় মনোনয়ন পেলে উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করার প্রত্যয় শাহ আলমের কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কু’পি’য়ে হ’ত্যা, ছেলে আ’ট’ক বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অ’ভি’যা’ন পরিচালনা করে ৩২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ০১ টি কষ্টি পাথর সদৃশ্য মূল্যবান পাথরের মূ’র্তি আ’ট’ক ন‌ওগাঁর পোরশায় ট্যা’পে’ন্টা’ড’লসহ দুই মা’দ’ক কারবারি আ’ট’ক নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁ’জা’সহ একজন গ্রে’প্তা’র

কলারোয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৭৬ বার পঠিত

শাহেদ আহমেদ, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ১ নম্বর জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহার বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দাখিল করা একটি লিখিত অভিযোগে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে টিআর, কাবিখা ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ প্রকৃত কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার ও কাগজপত্রের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে কেবল কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে তার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এবং উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত একাধিক প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জয়নগর বেণীপাড়া থেকে শ্মশান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও শ্মশান উন্নয়নের জন্য ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই স্থানে জেলা পরিষদের আরও ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার উন্নয়ন প্রকল্পেরও কোনো বাস্তব অগ্রগতি নেই বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে ওই রাস্তা এখনো চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

এছাড়া খোদ্দবাটরা গ্রামের সিরাজ মাস্টারের বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সামান্য মাটি ফেলে পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়নের আরও কয়েকটি রাস্তা সংস্কারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজ শুরুই হয়নি, অথচ বিল উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জয়নগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া কালীমন্দির ও মদনমোহন মন্দির সংস্কারের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট মন্দির কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। একইভাবে জয়নগর সরসকাটি বাজার উন্নয়নের জন্য ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাজারে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানান, বাজার উন্নয়নের নামে কোনো স্থায়ী অবকাঠামো বা সংস্কার কাজ চোখে পড়েনি।

অভিযোগকারী সাংবাদিক মো. হাবিবুল্লাহ বাহার বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং এসব অভিযোগের পক্ষে স্থানীয় বাসিন্দাসহ একাধিক ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। তার দাবি, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে এবং একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে এসব অর্থ ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অনিয়ম চললেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তারা মত দেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park