
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী,
নীলফামারী
দুই দফা দাবিতে বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি. নং বি-২০২৩১) এবং বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ঘোষিত দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের পূর্ণ কর্মবিরতি ও ধর্মঘট কর্মসূচি গত সোমবার (৬ জুলাই) থেকে কার্যকর হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার সকল শাখা ডাকঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধর্মঘট পালন করেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কর্মচারীরা ব্যানারে ২৩০২১ কর্মচারীর ন্যায্য দাবি উল্লেখ করে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। ধর্মঘট কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন শাখা পোস্ট মাস্টার হাফিজুর রহমান। সঞ্চালনা করেন মীরগঞ্জ পোস্ট মাস্টার মীর জিকরুল খাঁন। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম রেজা, নির্বাহী সদস্য জুয়েল রানা, ঝারপাড়া পোস্ট মাস্টার শ্যামুলী রানী রায়সহ উপজেলার বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বক্তারা জানান, ডাকঘরের কর্মচারীদের বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং বিদ্যমান বেতন-ভাতা তিন গুণ বৃদ্ধি, এই দুই দফা দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ও ১৮ জুন ডাক অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দুই দফা দাবি আদায়ে অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে তিন দিনের কলম বিরতি কর্মসূচি ঘোষণা ও পালন করা হয়। সে সময়ই ঘোষণা দেওয়া হয়, দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ৬ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশের সকল শাখা ডাকঘরে অনির্দিষ্ট কালের পূর্ণ কর্মবিরতি ও ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করা হবে।সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশব্যাপী ধর্মঘট চলছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, ডাক বিভাগের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। আমাদের দুই দফা দাবি সম্পূর্ণ ন্যায্য ও যৌক্তিক। সরকার দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, তিনি আরও বলেন, ডাক বিভাগের সেবার মান উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের আরও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে হলে কর্মচারীদের ন্যায্য মর্যাদা, আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কর্মচারীদের অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এর প্রভাব দেশের ডাকসেবার ওপরও পড়বে বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জলঢাকা উপজেলা পোস্ট মাস্টার মোফাসিরুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমাকে এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে।সভাপতির বক্তব্যে হাফিজুর রহমান বলেন, ডাকঘরের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মর্যাদা, বেতন-ভাতা ও চাকরির নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। আমরা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা চাই না, আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী ঘোষিত ধর্মঘট ও আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ভাবে চলমান থাকবে।