
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী,
নীলফামারী
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা মিড-ডে মিল পরিদর্শনে গিয়ে একটি পচা ডিম পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ইউএনও। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত রাখা মিড-ডে মিলের খাবারের মান যাচাই করেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে একটি ডিম পচা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে স্বস্তির বিষয়, খাবারটি তখনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য ডিম ও কলা সরবরাহ করেন বিদ্যালয়ের দপ্তরি আলী টিটুর স্ত্রী হেনা বেগম। পচা ডিম শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং অন্য খাবারও পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মওলা বলেন, ইউএনও মহোদয় পরিদর্শনে এসে একটি ডিম পচা দেখতে পান। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণের আগেই সেটি শনাক্ত হওয়ায় কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে ডিমটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। পরিদর্শনের সময় একটি নষ্ট ডিম পাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়মিত তদারকি জোরদার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে আরও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে।