
নুর আলম
চীফ রিপোর্টার:
শীত পড়ার অনেক আগে থেকেই প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠে দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম সেরা এই পাইকারি সবজি বাজার।
মীরা শাহ চাষী বাজার সমবায় সমিতি নামে গড়ে ওঠা বাজারটি পরিচিত পেয়েছে ব্রাক নামে। প্রায় ৩ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা এ বাজারে আড়তের সংখ্যা শতাধিক। প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ কোটি বেচাকেনা হলেও সম্প্রতি ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানান হাট কতৃপক্ষ।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবছর জাজিরায় ১৫’শ ৩০ হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে অনেক সবজি বাগান নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে কৃষকরা সবজি উৎপাদনে ২০ দিন পিছিয়ে পড়ে। এই ২০দিনে অনেক সবজি উৎপাদনের মৌসুম শেষ হয়ে যায়। ফলে সবজি খেতে গম, খেসারি, ভুট্টা কিনবা অনন্য ফসলের বীজ বুনেছেন কৃষকরা। তাই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষাবাদ কম হয়েছে।
কাজির হাট মীরা শাহ চাষী বাজার (ব্রাক) এর আড়তদার মোঃ জলিল মাদবর জানান, তার এই বাজারে দীর্ঘদিনের ব্যাবসা। এবছর আড়তে কালো বেগুন এবং টমেটো আসছে খুবই কম। পেঁয়াজ রসুন ও আসেনা। তাই অন্য সব বছরের তুলনায় বেচাকেনা কম।
দুলাল চৌকিদার নামে আরেক আড়তদার বলেন, এই সময়ে এই বাজারে সবথেকে বেশি বেচাকেনা হওয়ার কথা টমেটো এবং কালো বেগুনের। তবে ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে কৃষকরা অনেক পিছিয়ে পড়েছে। আসা করছি সামনে বেচাকেনা বাড়বে।
ব্রাকে লাউ বিক্রি করতে আসা রফিক মাদবর নামে এক কৃষক বলেন, এবছর তিনি ১০’কাঠা জমিতে টমেটো লাগিয়েছিলেন। টমেটো গাছে ফুল আসার পর ঘুর্ণিঝড় আসে। এবং তার সব টমেটো গাছ হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। এতে তার সব খেতে থাকা সব টমেটো গাছ মরে যায়। নতুন করে চারা দিয়ে গাছ লাগাতে প্রায় ২০-২৫ দিন সময় লেগে যেতো। তাই ওই জমিতে খেঁসারি বুনেছি।
চাষী বাজার সমবায় সমিতি (ব্রাক) এর পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল জলিল মাদবর জানান, ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি হাটের কাছে ফেঁসে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন গাড়িটি ঠেলে উদ্ধার করে দিলে গাড়িতে থাকা সেনাবাহিনী এখানে পাইকারি সবজির আড়ত করতে অনুরোধ করেন। এরপর মীরাশাহ চাষি বাজার সমবায় সমিতি নামে গড়ে ওঠা বাজারটি পাশে থাকা ব্রাক ব্যাংক এর সাথে কাজির হাট ব্রাক নামে পরিচিতি পায়। পেঁয়াজ রসুন থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজি কৃষকরা সরাসরি মাঠ থেকে তুলে এখানে পাঠায়। এখানে দাম অনেক ভালো পাওয়া যায় তাই কৃষক এখানে সবজি বিক্রি করতে আসে দূর দূরান্ত থেকে। এখান থেকে প্রতিদিন শতশত ট্রাক সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানের জন্য নেয়া হয়।