
এস এম সাইদ হোসেন রিপন
রাজধানীর উত্তরা-তুরাগ এলাকায় ময়লা সংগ্রহকারী গাড়ি থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ময়লার গাড়ি থামিয়ে টাকা দাবি করা হচ্ছে। দাবিকৃত টাকা না দিলে গাড়ি আটকে রাখা কিংবা ময়লা ফেলতে বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তুরাগের বিভিন্ন মহল্লা থেকে ময়লা সংগ্রহকারী গাড়িগুলোকে বিভিন্ন স্থানে থামানো হয়। এরপর গাড়িপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। এতে ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
অভিযোগের তালিকায় যাদের নাম
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ভাটুলিয়া ও নয়ানীচালা ইউনিট বিএনপির সভাপতি হাজী মো. আবুল কাশেম, সাবেক বিএনপি নেতা মো. ওমর আলী এবং বিএনপি নেতা মো. লিটন ও মো. ফারুকের নাম উঠে এসেছে।
এছাড়া আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
ময়লা জমে বাড়ছে জনদুর্ভোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, টাকা দেওয়া নিয়ে জটিলতার কারণে কয়েকটি এলাকায় নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ ব্যাহত হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তুরাগের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা নিয়মিত কর ও সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ফি দিই। এরপরও ময়লার গাড়ি প্রতি আলাদাভাবে টাকা দিতে হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার।”
তদন্তের দাবি
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা বাধা সৃষ্টি হলে এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তাই ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট থানা ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চান তারা।
তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।