
শহিদুল ইসলাম (শাহেদ)
মাদারীপুরে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর হামলা চালিয়েছে মালিকপক্ষের লোকজন। এতে আহত হয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকসহ ৬ জন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার পাঁচখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, পরিবেশ অধিপপ্তর ফরিদপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ডিডি) সাইফুল ইসলাম, কম্পিউটার অপারেটর কাজী আবু আবদুল্লাহ, মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন, সদস্য মোঃ মনিরুজ্জামান, জাহিদুল ইসলাম, এসকেবেটর মেশিনের চালক মোঃ রায়হান মিয়া।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, পরিবেশের নিয়ম না মেনে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে এমন খবরের ভিত্তিতে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা এলাকায় অভিযানে যান পরিবেশ অধিদপ্তরের (সদর দপ্তর) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন হকের নেতৃত্বে একটি দল। এ সময় পাঁচখোলা এলাকার জেএসবি ব্রিকস-এ সত্যতা পেলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের মাধ্যমে পানি ছিটিয়ে ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। এ সময় ইটভাটার মালিক সোবাহান ফকিরের নেতৃত্বে কয়েশ শ্রমিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর হামলা চালায়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আহত হন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকসহ ৬ জন। এ সময় একটি এসকেবেটর মেশিন (ভেকু) ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সময় ওই ইটভাটা ও একই এলাকার জেএসবি ব্রিকস, এআরজি ব্রিকস, খান ব্রিকস, এএসবি ব্রিকস, জেএসবি ব্রিকস, আনোয়ান খান ব্রিকস-এ অভিযান চালিয়ে প্রত্যেককে আড়াই লাখ টাকা ও আমেনা ব্রিকসকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন হক। নিয়মিত এই অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার মোঃ মাহতাবউদ্দিন জানান, মুহুতেই কয়েকশ’ মানুষ এতে অতর্কিত হামলা চালায়। সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করেন। মূলত যখন চিমনিকে ভেকু দিয়ে আঘাত করা হয়, ঠিক তখনই এই হামলা চালায় মালিকপক্ষের লোকজন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন হক জানান, হামলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডিসহ ৬ জন আ*হত হয়েছেন। আহতরা চিকিৎসা নিয়েছেন। হাম*লার ঘটনায় থানায় মামলা করার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। এদিকে মোট ৭টি ইটভাটায় সাড়ে ১৬ লাখ জরিমানা করা হয়।
এদিকে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সোবাহান ফকিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।