
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় তিন কন্যা সন্তানের জননীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিচারে দাবীতে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা। ভাংচুর করা হয় হাসপাতাল। ঘটনার পর পলাতক অভিযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় মাদারীপুর শহরের পানিছত্র এলাকার বেসরকারি কেআই হাসপাতালে ভর্তি হন তিন কণ্যা সন্তানের জননী লাকী আক্তার। দুপুর একটার দিকে টনসেল অপারেশনের জন্য তাকে নেয়া হয় হাসপাতালের দোতলার অপারেশন থিয়েটারে। সেখানে মিজানুর রহমান নামে এক চিকিৎসক তার সহযোগিদের নিয়ে অপারেশন শুরু করেন। পরে মুহুর্তেই অপারেশন টেবিলেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন এই গৃহবধু। কিন্তু বিষয়টি গোপন করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় এ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে প্রেরনের চেষ্টা করলে ধরা পড়ে মারা যাবার ঘটনা। লাকীর মৃত্যুর খবরে হাসপাতাল ভাংচুর করে উত্তেজিত জনতা। বিচার দাবীতে বিক্ষোভ করেন স্বজনরা। এদিকে এলাকাবাসী জানান এই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রায়ই ঘটে মৃত্যুর ঘটনা। এদিকে স্বজন হারানোর বিচার দাবীতে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে থানা পুলিশের পাশাপাশি যোগ দেয় জেলার গোয়েন্দা পুলিশ।
নিহত লাকীর স্বামী সৈয়দ শামীম বলেন, অপারেশনের ৪ ঘন্টা পরে বলে ঢাকায় নিতে হবে। এ কথা বলার আগেই মারা যায় লাকী। আমি ডাক্তার ও হাসপাতালের মালিকদের বিচার চাই। কেন আমার তিনটি মেয়েকে মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত করলো।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সেলিম সরদার বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
প্রসঙ্গত, নিহত লাকী শিবচর পৌরসভার খানকান্দি এলাকার ইলেকট্রিশিয়ান সৈয়দ শামীমের স্ত্রী। তিনি শহরের চৌরাস্তা এলাকার বাদশা বেপারীর মেয়ে। এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনার পর পলাতক রয়েছে।