
হাতিয়া (নোয়াখালী)
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক স্কুলশিক্ষিকার বসতঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, জমির দলিলসহ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকার আব্দুল মোতালেব মিয়ার বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির বাসিন্দা স্কুলশিক্ষিকা নাসিমা আক্তারের বসতঘরে আগুন লাগে।
অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ পরিবারের ব্যবহৃত যাবতীয় আসবাবপত্র, মূল্যবান মালামাল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে যায়। আগুনে প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪০ হাজার টাকা, জমির দলিল, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এ ছাড়া পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্রও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
আগুনের খবর পেয়ে হাতিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এ ঘটনায় পরিবারটি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যবহার্য সামগ্রী হারিয়ে পরিবারটি চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলশিক্ষিকা নাসিমা আক্তার বলেন, “হঠাৎ আগুনে আমার সাজানো সংসারটি এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, জমির দলিল, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন নতুন করে সবকিছু গুছিয়ে নেওয়া আমাদের পরিবারের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। এই দুর্যোগে আমি ও আমার পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছি।
এমন পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের পরিবারের প্রতি সদয় দৃষ্টি দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন, তাহলে আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারব বলে আশাবাদী।