
আজকের সংগ্রাম ডেস্ক :
আদালতের আদেশ উপেক্ষা করায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার বেতন বন্ধের নির্দেশ ও পরবর্তী তারিখে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেওয়ার আদেশ দিয়েছে কুড়িগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
বিচারিক আদালাতে সাক্ষীর জন্য মামলা থাকলেও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা ১১ থেকে ২২ কার্যদিবস আদালতের আদেশ কপি পেয়েও হাজির না হওয়ায় বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যা আদালত অবমাননার সামিল মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক মো. মজনু মিয়া এ আদেশ দেন।
আদেশে বলা হয়, আদালতের আদেশ ও সমন পেয়ে আদালতে হাজির না হওয়া সিআরপিসি এর ৪৮৫(এ) ধারা অনুযায়ী শাস্তি যোগ্য অপরাধ। অপর মামলা রাজারহাট থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশেদুজ্জামান বিচারিক আদালতে বিচারকের নির্দেশ উপেক্ষা করে গত ১৯ ধার্য তারিখ অনুপস্থি ছিলেন।
রাজারহাট থানার জিআর-২০৩/২০১৯ এর আসামি পক্ষের আইনজীবী জিন্নাত আরা পারুল জানান, এটি মাদক মামলা। আসামি ২ জন হায়দার ও বিপ্লব। মাদকের পরিমান ৫০ গ্রাম করে ১০০ গ্রাম গাজা রাখার অভিযোগ। প্রায় চার বছর ধরে মামলা চলছে। আসামিরা নিয়মিত হাজিরা দিলেও রাষ্ট্র পক্ষ সাক্ষী না দেয়ায় ন্যায় বিচার মিলছে না। আদালত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় এবং হয়রানী বন্ধে সাহসী আদেশ দিয়েছেন।
কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি আদালতের আদেশ মঙ্গলবার পেয়েছেন। এ ব্যাপারে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিচারিক আদালতের সরকারি আইন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, সময় মতো সাক্ষী না আসায় বিচার কাজ বিলম্বিত হচ্ছিল। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আদালত এ আদেশ দেন।
কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন জানান, আদালতের এ আদেশের ফলে আগামীতে সকল সরকারি দপ্তরের সাক্ষীদের অনুপস্থিতি হ্রাস পাবে। যা মামলা নিষ্পত্তিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইচ্ছাকৃত অনুপস্থিতি রহিত হবে। বিভিন্ন মামলায় সাক্ষী দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের পবিত্র দায়িত্ব। তা না হলে ব্যাহত হয় বিচার কার্যক্রম।