
নুর আলম
চীফ রিপোর্টার:
হয়রানি ও দালাল মুক্ত গ্রাহক সেবা দিয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জাজিরা জোনাল অফিস। ঘুষ, দুর্নীতি, দালাল মুক্ত করন এবং গ্রাহক হয়রানি রোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে অফিসটি।
একটা সময় মনে করা হতো বিদ্যুৎ অফিস মানেই দুর্নীতির আখড়া। বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে হলে ধরতে হবে দালাল। দিতে হবে পদে পদে টাকা। মিটার পেতে সময় লাগবে বছরখানেক। তবে সেই ধারণা পুরোটাই পাল্টে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জাজিরা জোনাল অফিস।
অফিসটিতে নেই কোনো দালাল চক্র। গ্রাহক ঘরে বসেই বিদ্যুৎ সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন ও টাকা জমা দিতে পারে। আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে আবেদন ও টাকা জমা দেয়ার সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যেই মিটার পেয়ে যায় গ্রাহক। দালাল ও হয়রানি মুক্ত সেবা পেয়ে খুশি জোনাল অফিসে বিদ্যুৎ সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতারাও।
জাজিরার বড় গোপালপুরের মোঃ মতি মাদবর জানান, তার নতুন বাড়ির জন্য মিটার নিতে গিয়েছিলেন বিদ্যুৎ অফিসে। অনলাইনে আবেদন এবং নির্দিষ্ট ফি জমা দেয়ার তিন দিনের মধ্যেই তিনি মিটার পেয়ে গেছেন।
সেনেরচর এলাকার লালন মাদবর নামে একজন বলেন, জাজিরা বিদ্যুৎ অফিসের সেবায় তিনি খুশি। কোনো কারণে বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা দেখা দিলে বিদ্যুৎ অফিসে কল করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই সংযোগ ঠিক করার লোক চলে আসে। গভীর রাত কিনবা ঝড়বৃষ্টি হোক, সবসময়ই তারা গ্রাহকের পাশে থাকে।
শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জাজিরা জোনাল অফিসটি ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল কার্যক্রম শুরু করে। জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার আংশিক নিয়ে গড়ে উঠা অফিসটির বিদ্যুৎ সংযোগের আয়তন ২’শ ৯৩.৫৩ বর্গকিলোমিটার। চলতি বছরের ১৭’ই জানুয়ারি পর্যন্ত ৮’শ ২৫.০৩ কিলোমিটার লাইন চালু রয়েছে অফিসটির আওতায়। ১০/১২.৫০ ও ১০/১৪ কেভি (কিলো ভোল্ট) এর ২’টি উপকেন্দ্রর মাধ্যমে ৪৩ হাজার ৪’শ ৯৩ জন গ্রাহকের মাঝে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জাজিরা জোনাল অফিস সাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আশরাফুল আলম খান বলেন, আমি গত বছরের মার্চের ১৫ তারিখে এই অফিসে যোগদান করেছি। আমাদের অফিসে কোনো দালাল চক্র নেই। গ্রাহক সরাসরি অফিসে এসে সেবা নিতে পারবে। এজন্য কাউকে আলাদাভাবে কোনো টাকা দেয়া লাগবে না। আমরা সবসময় চাই গ্রাহক যাতে হয়রানি মুক্ত সেবা পায়।