
মোঃ রাজিব
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি খ্যাত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সাগরকন্যা।যেখানে দাঁড়িয়ে একসাথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়।
প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতি বছরই প্রায় ১২লাখের বেশী দেশী-বিদেশী পর্যটকের সমাগম ঘটে এই সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটায়।দূর-দূরান্ত থেকে ভ্রমনপিপাসুরা গাড়ি নিয়ে কুয়াকাটায় আসে সাচ্ছন্দ্যে। তবে এসেই গাড়িং পার্কিংয়ের অবস্থাপনায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় পর্যটকদের।
গাড়ি পার্কিংয়ের অব্যবস্হাপনার অহরহ অভিযোগ রয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। লোকাল, পরিবহন, অটোরিকশা, অটোভ্যান, মালবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য সব যানবাহন গুলো বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছড়িয়ে আছে যত্রতত্র। মেইন সড়কে দুপাশে।
পদ্মা সেতু চালুর পর পরই কুয়াকাটাগামী যানবাহনের ব্যাপক চাপ! গত কাল শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় কুয়াকাটা থেকে মহিপুর প্রায় ৫ কিলোমিটার ধরে প্রায় ১৬০ টি বাস বিশৃঙ্খলা অবস্থায় ছড়িয়ে আছে মেইন সড়কের দু-পাশে এতে পর্যটক সহ এলাকার জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। কোনো বাস টার্মিনাল না থাকায় মেইন সড়কের দুই পাশে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রীবাহী পরিবহন। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন না পর্যটক ও স্হানীয় সহ সাধারণ জনগন। এতে ক্ষোভ জানান পর্যটক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
এ সমস্যা সমাধানে ২০২২সালের জানুয়ারিতে তুলাতলী নামক স্হানে “কুয়াকাটা পৌর বাস টার্মিনাল” নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি টাকার ও বেশি। কিন্তু ৩০ জুন কাজের মেয়াদ শেষ হবার কথা থাকলেও এখনো বাকি দুই তৃতীয়াংশ কাজ। শুধুমাত্র বালু ভরাট আর সীমানা প্রাচীরের কিছু অংশের কাজ শেষ হয়েছে। এলাকাবাসীর ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সহ সকলের অভিযোগ পৌর কর্তৃপক্ষের গাফেলতি ও কাজের ধীরগতির জন্যই এখনো ঝুলে আছে টার্মিনালের কাজ।
এ অবস্থায় দ্রুত বাস টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি পর্যটন ব্যবসায়ীদের।
তবে পৌর মেয়র বলছেন, পর্যটকদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে টার্মিনালের কাজ। কতদিন লাগবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছি বলে এরিয়ে যায়।
পৌর আওয়ামিলীগের সভাপতি আ.বারেক মোল্লা বলেন, যে পৌরসভা পরিস্কার-পরিছন্ন ও যানজট মুক্ত রাখতে না পারে আমি মনে তার ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করা উচিৎ।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর প্রতিদিন কুয়াকাটার উদ্দেশে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসে ৩২টি এসি, নন-এসি ও ভিআইপি সহ অর্ধশতাধিক লোকাল বাস।