
মোঃসিফাত উল্লাহ, বরিশাল প্রতিনিধিঃ
বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অর্ধেক পদই শূন্য। এতে চরম বিপাকে পড়ছেন সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানিয়ে এলেও তা পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ জানান চিকিৎসক নেতারা।
বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক হাজার শয্যার হলেও গড়ে প্রতিদিন দুই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। আর বহির্বিভাগে সেবা নেন প্রায় তিন হাজার। এখানে ৫২৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন ২৯৮ জন। ২২৮টি পদই শূন্য। কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারার কথা স্বীকার করেন চিকিৎসকরাও। ক্ষুব্ধ রোগী ও তাদের স্বজনরা।
রফিক নামে এক রোগীর স্বজন জানান, আজ ৪ দিন ধরে আমার নাতি মেডিকেলে ভর্তি। এর মধ্যে ডাক্তার আসছে মাত্র ২ দিন। এমন করলে আমরা কোথায় যাব।আছমা বেগম নামে আরেক রোগীর স্বজন জানান, ডাক্তারদের সঙ্গে কথাই বলা যায় না। রোগীর কাছেও তেমন একটা আসে না তারা। এমন করলে আমরা কি সেবা পাচ্ছি জানি না। আবজাল নামে আরেক রোগীর স্বজন জানান, ডাক্তারদের সময়মতো পাওয়া যায় না। সময়মতো সেবা পেলে ভালো হয়।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এ বিষয়ে আমারা সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বিভাগের সরকারি হাসপাতালে মোট এক হাজার ২৮১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৬৮৮ জন। ৫৯৩ জনের পদই ফাঁকা। এতে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বরিশালে চিকিৎসকের পদ আছে ৭৮০টি। কর্মরত আছেন ৪৬৫ জন। আর শূন্য আছে ৩১৫টি। পটুয়াখালীতে চিকিৎসকের পদ আছে ২৫৯টি। কর্মরত আছেন ১১৮ জন। আর শূন্য আছে ১৪১টি। ভোলায় চিকিৎসকের পদ আছে ২৪৭টি। কর্মরত আছেন ১২৯ জন। আর শূন্য আছে ১১৮টি। পিরোজপুরে চিকিৎসকের পদ আছে ১৯২টি। কর্মরত আছেন ১১৫ জন। আর শূন্য আছে ৭৭টি। বরগুনায় চিকিৎসকের পদ আছে ১৮৬টি। কর্মরত আছেন ৮৫ জন। আর শূন্য আছে ১০১টি। ঝালকাঠিতে চিকিৎসকের পদ আছে ১৪৩টি। কর্মরত আছেন ৭৪ জন। আর শূন্য আছে ৬৯টি।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বরিশাল শাখার আজীবন সদস্য ডা. প্রদীপ কুমার বণিক বলেন, একজন ডাক্তার দিয়ে চারজন ডাক্তারের কাজ করানো সম্ভব না। এর জন্য দ্রুত জনবল বাড়ানো দরকার।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বরিশাল শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক ডা. জিএম নাজিমুল হক বলেন, মিডলেভেলের ডাক্তাররা ২৪ ঘণ্টাই রোগীর সেবা দিয়ে থাকে। কিন্তু এদের সংকট সবচেয়ে বেশে। সরকারের দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের উপপরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, আমাদের সংকট আছে। আমরা স্বাস্থ্য খাতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি, তালিকা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিক ছাড়া বরিশালে বিভাগে মোট ১২৫টি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।