সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আ’ট’ক পাঁচবিবিতে ওসির অ’ভি’যা’নে মা’দ’ক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬০ বোতল ফা’য়া’র’ডি’ল উ’দ্ধা’র কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অ’ভি’যা’নে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উ’দ্বা’র কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অ’ভি’যা’নে ২৩৫০ ভারতীয় বাজিসহ গ্রে’প্তা’র-১৬ ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে দলীয় মনোনয়ন পেলে উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করার প্রত্যয় শাহ আলমের কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কু’পি’য়ে হ’ত্যা, ছেলে আ’ট’ক বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অ’ভি’যা’ন পরিচালনা করে ৩২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ০১ টি কষ্টি পাথর সদৃশ্য মূল্যবান পাথরের মূ’র্তি আ’ট’ক ন‌ওগাঁর পোরশায় ট্যা’পে’ন্টা’ড’লসহ দুই মা’দ’ক কারবারি আ’ট’ক নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁ’জা’সহ একজন গ্রে’প্তা’র

দুই দশকে কৃষিতে সমৃদ্ধ রংপুর অঞ্চল

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১২ মার্চ, ২০২৩
  • ১৯৫ বার পঠিত

মোস্তাফিজার রহমান রংপুর প্রতিনিধি:

উন্নয়নের পথে রংপুর অঞ্চল। গত দুই দশকে কৃষি সমৃদ্ধ করেছে এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে। প্রতি বছর রংপুর বিভাগে ফসল উৎপান হয় ৯৪ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি। স্থানীয় জোগান মিটিয়ে এই অঞ্চলের ফসল চাহিদা মেটাচ্ছে রাজধানীসহ দক্ষিণ অঞ্চলেরও। তবে এক দশকে এই বিভাগ যুক্ত হয়েছে শিল্পখাতও।
গবেষকরা বলছেন, কৃষি সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে বেগবান করতে সময় এসেছে শিল্পায়নে গুরুত্ব দেওয়ার। তাদের মতে, সড়ক, রেলও গ্যাস সংযোগসহ সরকারের চলমান উন্নয়নকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়া গেলে এই অঞ্চল হয়ে উঠতে পারে বাণিজ্যের নতুন সম্ভবনাময় একটি জায়গা।
পীরগাছার পারুল ইউনিয়নের কৃষক হুমায়ন খান তার এক বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। একটা সময় এই জমিতে ধান ও গম চাষ করলেও গত পাঁচ বছর ধরে সবজি চাষ করছেন। তিনি জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। খরচের তুলনায় সবজি চাষে মুনাফাও ভালো পাওয়া যায়। তার মতে, এই গ্রামের অনেকেই সবজি চাষ করে নিজেকে বদলে ফেলেছেন।
কৃষকরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে এখন সবজি বিক্রি করতে তাদের হাট-বাজারে যেতে হয় না। রংপুরের সবজি বিভিন্ন পাইকারদের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তে।
সবজি ছাড়াও প্রতি বছর রংপুর বিভাগে যে ধান উৎপাদন হয় তা খাদ্য চাহিদার ২০ শতাংশ পূরণ করে। সবজি ও ধান ছাড়াও ভুট্টার বড় জোগান এখন রংপুর বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, প্রতি বছর বিভাগে সবজি উৎপাদন হচ্ছে ২৬ লাখ টন, ধান ৪০ লাখ টন এবং ভুট্টা ২৮ থেকে ৩০ লাখ টন।
এখন নানা বৈচিত্র্যে ভরা রংপুর অঞ্চলের কৃষি। একটা সময় এই অঞ্চলের কৃষকদের ধানই ছিলো প্রধান ফসল। তবে সেই দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। কৃষকরা এখন বিভিন্ন ধরনের ফল-ফসল উৎপাদন করে রংপুর অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে দিয়েছেন। একইসঙ্গে যোগান দিচ্ছেন দেশীয় চাহিদার। কোন ফসল কোন সময় উৎপাদন করতে হবে এখন কৃষকরা সেই সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে শিখেছেন। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে সমৃদ্ধ হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতিও।
কৃষি বিশেষজ্ঞ করিম খান জানান, গত এক যুগে কৃষির পাশাপাশি গতি পেয়েছে এই বিভাগের শিল্পখাতে। নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে শুরু হয় শিল্পের পদধ্বনি। ইপিজেডে গড়ে ইঠেছে ২৪টি রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান। যেখানে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে ৩০ হাজার মানুষের। এছাড়াও বিভাগে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় শিল্প কলকারখানা। যেখানকার তৈরি পণ্য দেশীয় বাজার ছাড়াও রফতানি হচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে। বর্তমানে বিভাগে শুধু ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাই রয়েছে ৪ লাখেরও বেশি। সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এলেঙ্গা থেকে রংপুরের মর্ডান মোড় পর্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে ৬ লেন সড়কের কাজ। ২০২৪ সালে ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরমধ্যে মহাসড়কের ৬৫ শতাংশ কাজই শেষ হয়েছে। এছাড়াও রংপুর থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত হবে আরও একটি ৬ লেন সড়ক।
এর ফলে উত্তরাঞ্চল শিল্প-বাণিজ্যে যেমন গতি পাবে, একইসঙ্গে বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে মহাসড়কটি।
এছাড়াও ১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্পের কাজ। পাইপ লাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে ৯৮ শতাংশ। আর প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের সামগ্রিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে পাইপ লাইন কমিশনিংয়ের কাজ। কাজ শেষ হলে উত্তরের ১১ জেলা পাবে গ্যাসের সুবিধা।
বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্পের উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রবিদাস জানান, এক হাজার ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে এই প্রকল্পের কাজ। পাইপ লাইন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৯৮ শতাংশ। প্রকল্পের অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। চলতি বছরের জুন মাসে পাইপ লাইন বসানোর কমিশনিংয়ের কাজ শেষ হবে। কাজ শেষ হলে উত্তরের ১১ জেলা পাবে গ্যাসের সুবিধা।
তিনি জানান, এখন মাত্র আড়াইশত মিটার কাজ বাকি আছে। এরপর হাইড্রো টেস্ট করা হবে। এছাড়াও নদী ক্রোসিংয়ের কাজ বাকি আছে সাড়ে তিন কিলোমিটার। এরমধ্যে চারটি নদীর ক্রোসিং শেষ হয়েছে। চারটির কাজ বাকি আছে। আশা করছি, জুনের মধ্যে হয়ে যাবে।
বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার জানান, আবাসিক ও শিল্প কলকারখানায় পশ্চিম অঞ্চল গ্যাস সরবরাহ করবে। প্রত্যেক জায়গায় একটি করে অপটেক রাখা হয়।
বিভাগের রংপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রক্রিয়াধীন। এরইমধ্যে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমতি পেয়েছে। চলছে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে; এতে ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
রংপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মোস্তফা সোহরাব হোসেন চৌধুরি টিটু জানান, আমরা চাই বর্তমান সরকার রংপুর অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য ও বেকারত্ব কমানোর জন্য এই অঞ্চলে শিল্প কলকারখানা তৈরি করুক।
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন জানান, শিল্পায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে। কর্মসংস্থান বাড়বে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আসলে এই অঞ্চলের আরো উন্নতি হবে। সম্ভবনার আরেক দুয়ার চিলাহাটি-হলদি বাড়ি রেলপথ। ভুটান, নেপালসহ ভারতের পূবাঞ্চল বাণিজ্য, পর্যটনসহ নানা কারণে এই রেলপথ ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছে। বর্তমানে এই পথে ভারত-বাংলাদেশ পণ্যবাহী ও মালবাহী রেল চলছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষির পাশাপাশি শিল্পকেও গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিবে রংপুর বিভাগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park