
মোঃসিফাত উল্লাহ
উজিরপুর(বরিশাল)
কচুরিপানা ও জনজাল হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ দিয়ে গোল আকৃতির মন্ড তৈরি এক বিস্ময়কর কৃষি পদ্ধতির অংশ ! প্রায় ২০০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় এভাবেই মাটি ছাড়া সবজি উৎপাদন করে আসছে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকার চাষীরা !
শুধু মাএ এই বিস্ময়কর কৃষি পদ্ধতির কারনেই আমাদের কাছে জনজাল হিসেবে পরিচিত কচুরিপানা সহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ ও আগাছা অত্যান্ত চড়া দামে বিক্রি হয় এই এলাকার বাজার গুলোতে! আমাদের কাছে জনজাল মনে হলেও কৃষকরা এসব শ্যাওলা ও জনজাল চড়া দাম দিয়ে কিনে থাকেন সবজি চাষের জন্য! পুরুষ কৃষকরা ব্যস্ত খালে বিলে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মনেয়া কচুরিপানা ও আগাছা টেনে একএিত করে বিশেষভাবে ভাসমান বীজতলা তৈরি কাজে আর একদিকে নারীরা ব্যস্ত বাজার থেকে কিনে আনা শ্যাওলা ও টোপাপানা দিয়ে বিশেষ উপায়ে মন্ড তৈরি কাজে! এই মন্ডপকে স্হানীয়ভাবে গোলগোল্লা বলা হয় প্রতিটি মন্ডপ বা গোল্লা টেনিস বলের সমান হয়ে থাকে! মন্ড তৈরি করার পর তার মাঝে পুতে দেয়া হয় লাউ,কুমড়ো, বা অন্য যে কোন সবজির বীজ প্রতিটি মন্ডপে পোতা হয় এক বা একাধিক বীজ শ্যাওলা ও টোপাপানা দিয়ে তৈরি মন্ডের ভেতর সবজির বীজ পুতে তা প্রথমে স্তুপ করে সারিবদ্ধ ভাবে রেখে দেয়া হয় কিছুদিন এভাবে ৮/১০ দিন রেখে দেয়ার পর মন্ডের ভেতরে রাখা বীজগুলো ভালোভাবে অঙ্কুরিত হলে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয় পানির উপর কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করা ভাসমান বীজতলায়!
পানির উপর কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান ভাবে তৈরি এ বীজতলা গুলো স্হানীয়ভাবে ধাপ হিসেবে পরিচিত! অঙ্কুরিত চারাগুলো ভাসমান বীজ তলা বা ধাপের সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় এই পদ্ধতিতে প্রতিটি ধাপে রোপন করা যায় ১২০০ থেকে ২৫০০ চারা প্রতিটি ধাপ প্রায় ১০০ হাত লম্বা ও চওড়া ৩/৪ হাত এই পদ্ধতিতে বোম্বাই চারা,লাউ চারা,সিম চারা,পেপে চারা,টমেটো চারা,করলা চারা,বাধাকপি চারা,ফুলকপি চারা সহ সব ধরনের সবজি চাষ করা যায় অঙ্কুরিত চারা ধাপে রাখার পর চারা হিসেবে বাজারে বিক্রির জন্য সময় লাগে ২৫/৩০ দিন চারাগাছগুলো বিক্রির উপযোগী হলে পাইকারী ক্রেতারা চারা গুলো কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যায়! আষাঢ় মাস এলেই এ এলাকায় শুরু হয় ভাসমান চাষের এ প্রক্রিয়া অগ্রহায়ন মাস পর্যন্ত চলে তাদের এই কর্মজজ্ঞ!
প্রতিটি মৌসুমে একটি ধাপে সর্বোচ্চ ৫ বার চারা গাছ উৎপাদন করা যায় এরপর পানি নেমে গেলে ঠিক একই যায়গায় রোপন করা হয় ধান এভাবে প্রায় ২০০ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় এভাবেই মাটি ছাড়া ভাসমান সবজি চাষ করে আসছে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকার চাষীরা !