
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর মুগদা মেইন রোডে দুর্বৃত্তরা দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে
রাজধানীর কমলাপুর ফুটওভার ব্রিজের পথ ধরে গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশস্থলে যাচ্ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। আর ওই পথে আগে থেকে বসেছিলেন সবুজবাগ ও মুগদা থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতাকর্মীদের সমাবেশে যেতে বাধা দিতেই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এই অবস্থা দেখে আতঙ্কে বাইক রেখে পালিয়ে যান দুজন বাইক চালক। এই ফাঁকেই দুটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
আগুন নেভানোর আগেই বাইক দুটি পুড়ে যায়। তবে বাইক দুটির মালিক কে, কোন পক্ষ বাইকে আগুন দিয়েছে, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশও এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি।
শনিবার বিকেল ৩টার দিকে কমলাপুর ফুটওভার ব্রিজের (মুগদা হাসপাতালের পাশে) পাশে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ বলছে, বাইক দুটির প্রকৃত মালিক কে, তা জানার চেষ্টা চলছে, কিংবা তারা থানায় এসে অভিযোগ করলে মামলা নেওয়া হবে। আর কোনো পক্ষ কিংবা কে বাইকে আগুন দিয়েছে, তা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেল প্রায় ৩টা। কমলাপুর ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে বিএনপির সমাবেশস্থল থেকে নেতাকর্মীদের কেউ বের হচ্ছেন, কেউ কেউ তখনো সমাবেশে ঢুকছেন।
ঠিক ওই সময় ওই পথে লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে বসেছিলেন আওয়ামী লীগের সবুজবাগ ও মুগদা থানা কমিটির নেতাকর্মীরা। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও মিছিল দেখে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এ সময় দুজন বাইকার এ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায়। তখন তারা ভয়ে বাইক রেখে নিরাপদ স্থানে চলে যান। এই ফাঁকে কে বা কারা বাইক দুটিতে আগুন ধরে দেয়।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আওয়ামী লীগের যে সকল নেতাকর্মী ওই স্থানে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিলেন, বাইক দুটি তাদের। বিএনপির নেতাকর্মীরা সংখ্যায় বেশি হওয়ায় এবং তাদের ধাওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তখন ওখানে স্ট্যান্ড করে রাখা দুটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের সবুজবাগ জোনের এডিসি আখতার হোসেন বলেন, দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। বাইক দুটি নম্বর প্লেটসহ পুড়ে গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো দাবিদার আসেননি। কেউ থানায় এসে অভিযোগ করলে মামলা নেওয়া হবে। কে বা কারা বাইক দুটিতে আগুন দিয়েছে, তা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।