
রকিব হাসান
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের সিকিনওহাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে সাতজনকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন, মোস্তফাপুর ইউনিয়নের সিকিনোহাটা গ্রামে হাবিব ফকিরের ছেলে রবিউল ফকির (৩৭) আবদুল লতিফ ফকিরের ছেলে হোসেন ফকির (৩৫), শাজাহান শিকদারের ছেলে সাইফুল শিকদার (৩৮), করিম শিকদারের ছেলে বাদল (৪০)। এরমধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দুপুরে জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বাদল শিকদারের সঙ্গে রবিউল ফকিরের কথার কাটাকাটি হয়। এ সময় স্থানীয় মাদবররা দুপক্ষকে বসিয়ে সালিশ মিমাংসা করে দেয়। এ ঘটনার পরের দিন মঙ্গলবার সকালে জমিতে কাজ করতে যান রবিউল ফকির। এ সময় জমিতে বীচ রোপণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ফের কথার কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকর উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
সংঘর্ষে আহত রবিউল ফকির বলেন, বাদল শিকদারের লোকজন সকালে আমার জমির সীমানা থেকেও বাড়তি জমিতে বীচ রোপণ শুরু করে। আমি প্রতিবাদ জানালে বাদল আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয় বাদল শিকদার বলেন, আমি আমার জমির নির্ধারিত সীমানায় বীচ রোপণ করি। জমি আমার, তাই আমি আমার ইচ্ছেমত কাজ করবো। কিন্তু রবিউল অন্যায় ভাবে আমাকে বাঁধা দেন। হামলা সংঘর্ষের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, জমির সীমানা নির্ধারণ ও বীচ রোপণ নিয়ে শিকদার ও ফকির বংশের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল থেকে আমরা ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।