
বরিশাল প্রতিনিধিঃ
বরিশালের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর প্যাথলজি বিভাগের অধিকাংশ পরীক্ষা মেশিন অচল রয়েছে বছরের পর বছর ধরে। এসব মেশিনারিজ নষ্ট থাকার পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে!
সরেজমিনে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ কক্ষে ২০১৬ সাল থেকে অচল অবস্থায় পড়ে আছে এক্সরে মেশিন। তিন বছর ধরে অচল আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটিও। সঙ্গে আছে লোকবল সংকট। শুধু বাকেরগঞ্জ নয় জেলার উজিরপুর, মুলাদী, মেহেন্দীগঞ্জসহ ১০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশ পরীক্ষার মেশিন অচল!
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় নিত্য নতুন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক ল্যাব চালু হচ্ছে আর সরকারি হাসপাতালের মেশিন অচল থাকছে। বছরের পর বছর ধরে এসব মেশিন নষ্ট করে রাখছে হাসপাতালেরই শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র! আসমা বেগম নামের এক রোগী জানান, হাসপাতালে কোনো পরীক্ষায় হয় না। এর জন্য বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে যেতে হয়!
রোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষ সরকারি হাসপাতালে আসে সেবা নিতে; কিন্তু এখানে সেবার চেয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খরচা বেশি হয়। কারণ সব মেশিনই নষ্ট!
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ হাসান বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল না থাকা ও রোগ নির্ণয়ের মেশিনগুলো সচলে উর্ধতন কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠালেও সুরাহা হচ্ছে না!
বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মুন্সী মুবিনুল হক বলেন, আমরা চেষ্টা করছি প্রতিটি উপজেলায় যাতে সব মেশিন সচল থাকে। আশা করছি, দ্রুত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে সহায়তা পাব!
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের উপপরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, লোকোবলের বিষয়টি ঢাকা থেকে দেখা হয়। তবে সংকটের বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত এ সংকট কাটিয়ে আমরা সেবা দিতে পারব।
জেলার ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন বরাদ্দ দেয়া হলেও এর মধ্যে সাতটির এক্সরে ও পাঁচটির আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট। এ ছাড়া এসব হাসপাতালের বিভিন্ন পদে জনবল সংকট রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক!