
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের এলএ শাখায় ২শ’২৭ বার এসেও পাননি পদ্মা সেতু রেল লাইন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহনের ক্ষতিপূরনের টাকা। ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে এক শ্রেণির দালালচক্র অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে হাত মিলেয়ে প্রায় দুই বছর আগে তুলে নেয় এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা। বিষয়টি নজরে আসলে ৫ জনের নামে মামলা করে জেলা প্রশাসন। বেরিয়ে আসে প্রতারণার ভয়ংকর ঘটনা। এরইমধ্যে বুধবার সকালে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের মফিতুল্লা হাওলাদারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা হারুণ বেপারী। পদ্মা সেতু রেল লাইন প্রকল্পে ডাইয়ারচর মৌজায় তার জমি অধিগ্রহনের প্রস্তাব দেয় সরকার। অধিগ্রহনের বিল পেতে ধন্নাধরেন জেলা প্রশাসকের এলএ শাখায়। ক্ষতিপূরনের অর্থ চাইলে কর্মকর্তারা নানান অজুহাত দেখিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেয়। ২শ’২৭ বার আসেন এখানে, শেষমেষ জেলা প্রশাসককে অবহিত করলে বেরিয়ে আসে ঘটনার আসল রহস্য। জানতে পারেন প্রতারণার মাধ্যমে ২০২১ সালের ৪ঠা মার্চ তুলে নেয়া হয় ক্ষতিপূরনের ১ কোটি ৮৮ লাখ ১৪ হাজার ৩শ’টাকা। এই ঘটনায় ৫ জনের নামে সদর মডেল থানায় মামলা করেন জেলা প্রশাসকের এলএ শাখার কম্পিউটার অপারেটর সোহাগ মিয়া। এরইমধ্যে শাহীন বেপারী (৫৬) নামে একজনকে গ্রেফতার করে বুধবার বিকেলে আদালতে পাঠায় পুলিশ। শাহীন বেপারী ছাড়া মামলায় আরো আসামী করা হয় আলী জামান (৫৫), নজরুল খাঁ (৩৫), আক্তারুজ্জামান (৪৫) ও নাসিরউদ্দিন (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি শিবচর উাপজেলায়। এছাড়া এই ঘটনায় সরকারি কোন কর্মকর্তা জড়িত আছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে আইনের আওতায় আনার দাবী ভুক্তভোগীর।
ক্ষতিগ্রস্থ হারুণ বেপারী জানান, জেলা প্রশাসকের এলএ শাখায় টানা দুই বছর ঘুরেও প্রাপ্যক্ষ তিপূরনের অর্থ পাইনি। এই ঘটনায় দোষীদের বিচার চাই। এছাড়া দ্রুত ক্ষতিপূরনের অর্থ ফিরে পেতে প্রশাসনের কাছে আকুতি জানাচ্ছি।
এদিকে ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেন অভিযুক্ত শাহীন বেপারী। তিনি জানান, লোভে পড়ে এই প্রতারণার কাজ করেছেন তিনি। বিনিময়ে পেয়েছেন ২০ লাখ টাকা।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, ভয়ংকর এই প্রতারনার মামলায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি ৪ জনকে ধরছে অভিযান শুরু হয়েছে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, যারা এই প্রতারনার সাথে জড়িত প্রত্যেকেই আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারি টাকা ফেরত পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। দুর্নীতির সাথে যারা জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।