
নুর আলম
চীফ রিপোর্টার:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারা দেশে ডিজিটাল ভূমি জরিপের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রণয়ন এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম চলছে।
সারা দেশের ন্যায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ বা বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) রেকর্ড কার্যক্রম (১ম পর্যায়) চলমান রয়েছে। জাজিরায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভূমি জরিপ কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৯ সালের শুরুতে।
জাজিরা সেটেলমেন্ট অফিসের দেয়া তথ্যমতে জাজিরা উপজেলায় মোট ১৩১’টি মৌজা রয়েছে। যারমধ্যে ৮’টি মৌজায় ডিজিটাল সার্ভের কাজ করেছে তারা। ৩’টি মৌজার কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা হয়েছে। একটিতে আপত্তি কার্যক্রম চলমান এবং বাকি ৪’টি মৌজায় খুব শীগ্রই আপত্তি কার্যক্রম শুরু হবে।
চলমান ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রমে দালাল ও হয়রানি মুক্ত সচ্ছ ভূমি রেকর্ড দিয়ে যাচ্ছে জাজিরা উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস।
সম্প্রতি জাজিরা সেটেলমেন্ট অফিস ঘুরে সেবা প্রার্থীদের মধ্যে একাধিক ব্যাক্তির সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আমরা সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যাবহারে সন্তুষ্ট। তারা রাজনৈতিক বা পেশিশক্তির তোয়াক্কা করেনা। কাগজমূলে যার জমি তাকেই রেকর্ড দিয়ে থাকেন।
বড় গোপালপুরের জসিম মাদবর জানান, সেনের চর মৌজায় তার দাদার রেখে যাওয়া ১৯ শতাংশ জমি আছে। যা বাহুবল প্রয়োগ করে ওখানকার একজনে ভোগদখল করে আসছে। চলমান ভূমি জরিপে আপত্তি অফিসার তাদের থেকে কাগজপত্র চেয়েছে। এবং আমাকে আস্বস্ত করেছে যে জমি আমার হলে আমাকে রেকর্ড দেয়া হবে। এজন্য আমার থেকে একটি টাকাও নেয়নি কেউ।
জাজিরা সেটেলমেন্ট অফিসের আপত্তি অফিসার মোঃ বাবুল আকতার বলেন, চলমান ভূমি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ডিজিটাল জরিপ (বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে—বিডিএস) জাতীয় জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে চলেছে। আমরা সবসময়ই চাই সাধারণ মানুষ যেনো তার প্রাপ্য সম্পত্তির হিসেব সঠিক ভাবে বুঝে পায়। আমাদের অসাবধানতার জন্য কেউ যেন ভুক্তভোগী না হয় সেদিকে আমরা মনোযোগী।
সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ হাসান আলী বলেন, আমরা দেখে আসছি ভূমি সংক্রান্ত মামলা ৫০-৬০ বছরেও নিষ্পত্তি হয় না। মামলা চালাতে গিয়ে অনেক পরিবার প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব মামলার সূত্রপাতের অন্যতম কারণ ভূমি জরিপের ত্রুটি।
এছাড়া, প্রচলিত জরিপের আরেকটি সমস্যা দীর্ঘসূত্রতা। নানা কারণে একেকটি জরিপ শেষ হতে ২০-২৫ বছরও লেগে যায়। জরিপের দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানি কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে ডিজিটাল জরিপের নির্দেশ দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয় বিডিএস নামের ক্যাডাস্ট্রাল জরিপের উদ্যোগ নেয়।
তারই অংশ হিসেবে জাজিরায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ চলছে। এই অফিসে হয়রানি মুক্ত সচ্ছ ভূমি রেকর্ড সেবা দিয়ে থাকে। এ অফিসে সেবা নিতে এসে কেউ হয়রানি হয়েছে এমন নজির নেই। এ অফিসে কোনো দালাল নেই। এমন প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না। যদি কেউ হয়রানির শিকার হয়ে থাকে তাহলে আমাদের জানালে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিবো।
অফিসটিতে ৫’জন আপত্তি অফিসার কাজ করছে। তাদের দক্ষতায় জাজিরায় ডিজিটাল ভূমি জরিপের কাজ দ্রুততার সাথে এগুচ্ছে।