
মোঃ রাজিব
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পিতলের তৈরি বিশেষ এক পাত্রে বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণের মিষ্টি সুগন্ধই চা পানের তৃষ্ণা জাগিয়ে তোলে। আর মাটির উত্তপ্ত কাপে পুড়ে যাওয়া ঘ্রাণ টানে যে কাউকে। অভিনব এই রেসিপি চা প্রেমীদের জিভে ভিন্ন স্বাদ নিয়ে এসেছে। ফলে পোড়া মাটির কাপে চুমুক দিয়েই তৃপ্তি অনুভব করছেন পর্যটকরা। তাই দিনদিন এই পর্যটন নগরী পটুয়াখালী কুয়াকাটায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তন্দুরি চা।
বিক্রেতারা বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশের এই চা তৈরির উপকরণ মিশ্রণ ইউটিউব দেখে শিখেছেন তারা। হরলিক্স, সরমালাই, কফি, মালটোবা, কাজু বাদাম, কিসমিস, গরুর দুধ ও চা পাতাসহ কি নেই আগুনে ঝলসানো এই তন্দুরি চায়ে। এমনকি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া হয় ভিন্ন স্বাদ। আর প্রকার ভেদে প্রতিকাপ চা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে নামতেই সড়কের পাশে দেখা মেলে সারিতে সাজানো ছোট ছোট মাটির পাত্র। মূলত এই পাত্র পুড়িয়েই উত্তপ্ত রেসিপি তৈরি করে পর্যটকদের হাতে তুলে দেন দোকানিরা। ছোট থেকে বড় সব ধরনের ক্রেতারাই এই তন্দুরি চা খেতে পছন্দ করেন।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, দোকানি টিটু দাস, সোবাহানসহ বেশ কয়েকটি তন্দুরি চায়ের দোকানে ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকরা। অনেকেই তৃপ্তির চুমুক দিচ্ছেন মাটির কাপের চায়ে। কথা হয় পর্যটক নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। জানালেন, সড়ক দিয়ে সৈকতে যাচ্ছিলেন তিনিসহ তার কয়েকজন বন্ধু। কিন্তু যাবার সময় চা পোড়ানোর মিষ্টি গন্ধ এবং ভিড় দেখে কৌতুহল নিয়ে দাঁড়িয়েছেন তারা। পরে তারাও তন্দুরি চায়ের স্বাদ উপভোগ করেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক নিঝুম জানান, ঢাকাতেও এই চা পাওয়া যায়। তবে কুয়াকাটাতে এসে ৩০ টাকায় তন্দুরি চা খেলাম, বেশ ভালোই লেগেছে। স্বাদটাও ঢাকার চায়ের চেয়ে একটু ভিন্ন ছিল।
বরিশাল থেকে আশা পর্যটক সরোয়ার হোসেন বলেন, মাটির পাত্রে চা পান করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ভারতে এই চা খেয়েছি। আজ কুয়াকাটায় খেলাম।
দোকানি সোবাহান জানান, প্রতিদিন তার দোকানে অন্তত ৫০০ কাপ চা বিক্রি হয়। তবে সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা ভিড় বেশি থাকলে বিক্রি আরো বেশি হয়।
অপর দোকানি টিটু দাস জানান, তিনি ঢাকায় তার এক স্বজনের মাধ্যমে এই চায়ের উপকরণ সম্পর্কে জেনেছেন। পরে কিছুদিন সেখানের প্রশিক্ষণ এবং ইউটিউব দেখে শিখে এখন কুয়াকাটায় দোকান দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে কবে থেকে এই চা বিক্রি শুরু হয়েছে তার ধারণা নেই। এছাড়া পর্যটকরা তন্দুরি চা খেয়ে বেশ খুশি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাকির জানান, অন্যসব পণ্যের চেয়ে কুয়াকাটায় প্রায় ১৫টি দোকানের তন্দুরি চা বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। এই চা এখন কুয়াকাটায় জনপ্রিয় একটি রেসিপি বললেও ভুল হবে না।
কুয়াকাটার পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার জানান, তন্দুরি চায়ের দোকানের ভিড় লক্ষণীয়। তবে ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত কোনো জায়গা এখনো ঠিক করা হয়নি। সড়কের পাশে পর্যটকরা ভিড় করে চা পান করেন, যা একটু দৃষ্টিকটু। তবে কোনো মার্কেটের ব্যবস্থা হলে এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের জন্য স্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তারা যাতে নির্দিষ্ট জায়গায় বসে পর্যটকদের মন রক্ষা করতে পারে