সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আ’ট’ক পাঁচবিবিতে ওসির অ’ভি’যা’নে মা’দ’ক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬০ বোতল ফা’য়া’র’ডি’ল উ’দ্ধা’র কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অ’ভি’যা’নে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উ’দ্বা’র কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অ’ভি’যা’নে ২৩৫০ ভারতীয় বাজিসহ গ্রে’প্তা’র-১৬ ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে দলীয় মনোনয়ন পেলে উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করার প্রত্যয় শাহ আলমের কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কু’পি’য়ে হ’ত্যা, ছেলে আ’ট’ক বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অ’ভি’যা’ন পরিচালনা করে ৩২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ০১ টি কষ্টি পাথর সদৃশ্য মূল্যবান পাথরের মূ’র্তি আ’ট’ক ন‌ওগাঁর পোরশায় ট্যা’পে’ন্টা’ড’লসহ দুই মা’দ’ক কারবারি আ’ট’ক নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁ’জা’সহ একজন গ্রে’প্তা’র

ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রস্তুতকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩
  • ১৭৮ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি :

সাইবার পুলিশ সেন্টার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে সংঘটিত যেকোন অপরাধ নির্মূল ও প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে সাইবার পেট্রোলিং ও মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

গত ০৭/০২/২০২৩ তারিখে জনাব মোঃ রাশেদুল ইসলাম, রেজিস্টার জেনারেল,জন্ম ও মূত্যু নিবন্ধন অধিদপ্তর মহোদয় সিআইডিকে একটি আবেদনে উল্লেখ করেন যে, অবৈধ বিকল্প পদ্ধতিতে কে বা কাহারা জন্ম ও মূত্যু নিবন্ধন সার্ভারে BDRIS ( Birth & Death Registration Information System) অনুপ্রবেশ করে সনদ প্রস্তুত করছে। তাদেরকে চিহ্নিতকরন ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করেন।

পত্র প্রাপ্তির পর সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোহাম্মদ আলী মিয়া বিপিএম, পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশনায় সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি), সিআইডি এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে কয়েকজন ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করে। ভিকটিমদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ‘জন্ম নিবন্ধন হেল্প ডেস্ক’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপের সন্ধান পাওয়া যায়। যেখানে ফেসবুকে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা বলছে একদিনেই দেশের যে কোন জেলার জন্ম/মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করুন।

সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) উক্ত ফেসবুক গ্রুপের এডমিনসহ ভিকটিমের সাথে জন্ম নিবন্ধনের ব্যাপারে যোগাযোগকারী চক্রটিকে সনাক্ত করে। পরবর্তীতে সাইবার ইন্টেলিজেন্স এন্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট শাখা, মিরপুর (পল্লবী) ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ফেসবুক গ্রুপের দুইজন এডমিন ১) মো: মাহবুব আলী (২৪) ও ২) মো: শাহ আলম (২৫) দেরকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৪ এর স্প্রেম্যান ৩) মো: হাসান তারেক (৪৭) এবং ভ্যাকসিনেটর ৪) কোহিনুর সুলতানা (৪৫) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে গ্রেফতারকালে সেখানে মো: হাসান তারেক এর কাছে জন্ম নিবন্ধনের জন্য ভুয়া কাগজপত্রসহ ফাইল জমা দিতে আসা এই চক্রের সদস্য ৫) মো: ফয়সাল (১৯) কেও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকালে আসামীদের কাছ থেকে বেশকিছু জন্ম সনদ, জন্ম সনদ তৈরির ভুয়া কাগজপত্রসহ ০৮ টি ফাইল, ৩. টি হার্ডডিস্ক, ৪ টি মোবাইল ফোন, জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উপরে বর্নিত ফেসবুক গ্রুপটি ১) মো: মাহবুব আলী (২৪) ও ২) মো: শাহ আলম (২৫) পরিচালনা করত। তারা ফেসবুকের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ হতে লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্লায়েন্ট সংগ্রহ করে এবং মো. ফয়সাল তার দোকানে ফরম পুরন করতে আসা ক্লায়েন্টদের দেওয়া তথ্যের সাথে ভুয়া তথ্য সংযোজন করে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট তৈরির ফাইল তৈরি করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৪ এর বর্ণিত দুইজন কর্মচারীর নিকট জমা দিতো। প্রতিটি ফাইলের বিপরীতে ৫৫০টাকা থেকে ১০০০ টাকা করে দিতো। যদিও জন্ম নিবন্ধনের সরকারী ফি-মাত্র ৫০/- টাকা। এই কাজে তারা দেশের সকল জেলা হতে ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে যে তথ্য সংগ্রহ করতো তার সাথে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৪ এর আওতাধীন এলাকার একটিমাত্র বিদ্যুৎ বিলের কাগজ সকল আবেদনের সাথে সংযুক্ত করে দিতো। অনেক ক্ষেত্রে মিরপুরের একটি স্কুলের ট্রান্সক্রিপ্ট এডিট করে সেখানে শুধুমাত্র ছাত্র/ছাত্রীর নাম, পিতার নাম পরিবর্তন করে একই রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে ট্রান্সক্রিপ্ট একাধিক আবেদনরে সাথে সংযুক্ত করে দিতো এই চক্র। এই কাগজ কোন রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই চক্রটিকে জন্ম সনদ দেওয়া হতো।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৪ এর বর্ণিত দুজন কর্মচারী অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের সহযোগিতায় আইডি পাসওয়ার্ড নিয়ে সার্ভারে প্রবেশ করে ভুয়া তথ্য সংবলিত আবেদনপত্রে জন্ম/মৃত্যু নিবন্ধন সার্টিফিকেট ইস্যু করে মো: মাহবুব আলী ও মো: ফয়সাল কে সরবরাহ করতো। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় বিগত ৬ মাস যাবত তারা সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে অন্তত তিন হাজার ভুয়া সনদ ইস্যু করেছে এবং এ কাজে তাদের অফিসের আরো কর্মচারী এবং সিটি কর্পোরেশনের উত্তর দক্ষিণসহ অন্যান্য অফিসেও এরকম অসাধু কর্মচারী সক্রিয়ভাবে জড়িত আছে। তাদেরকেও চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এভাবে ভুয়া তথ্য দিয়ে জন্ম নিবন্ধন এবং এই জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটেই এনআইডি, পাসপোর্টসহ বিভিন্ন পরিচয়পত্র ইস্যু করা হচ্ছে যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।
আসামীদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা রুজু হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park