
বিশেষ প্রতিনিধি:
মণিরামপুরে একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে চোরাই ও মরা গরুর মাংসের রমরমা ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে একটি মরা গরু এনে কসাইখানার পাশে নাম-কাওয়াস্তে জবাই দেওয়ার সময় জনতা ধাওয়া দিয়ে আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। এ সময় সিন্ডিকেট প্রধান আলমগীর কসাই ও তার প্রধান সহযোগী সুমন হোসেনসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে বুধবার সকালে স্থানীয়রা ওই মরা গরুটি মাটিচাপা দিয়েছে।
সূত্রে জানাযায়, আলমগীর নামের এক কসাই (মাংস বিক্রেতা) ও তার ছোট ভাই হাসানের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কম মূল্যে চোরাই, রোগাক্রান্ত, গর্ভবতী ও মরা গরু কিনে মাংস বিক্রি করে আসছিল। এ কর্মকান্ড করতে গিয়ে আলমগীর ইতিপূর্বে যশোর কোতয়ালী থানা পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে বলে জানা গেছে। সেখান থেকে মুক্ত হবার পর এলাকাবাসীর চাপের মুখে আলমগীর কুয়াদা বাজার থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। পরে সে মণিরামপুর পৌর শহরের স্বরুপদাহ এলাকায় বিবাহ সূত্রে ঘর জামাই হিসেবে বসবাস করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে ঘরজামাই থেকে আলমগীর মণিরামপুরেও একই ধরনের কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। মণিরামপুরে কসাই আলমগীরের এ সিন্ডিকেটের সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে গাংড়া এলাকার সুমন হোসেন, ভ্যান চালক আব্দুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গাংড়া এলাকা থেকে একটি মরা গরু ভ্যানে করে নিয়ে আসে পৌর শহরের জয়নগর এলাকায় কসাইখানার পাশে বাগানের ভেতর।
প্রত্যক্ষদর্শী কামরুজ্জামান ও গৃহবধু যমুনা বেগম জানান, গভীর রাতে বাগানের সামনে কসাই আলমগীর ও সুমনকে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এ সময় তারা বাগানের দিকে এগিয়ে গেলে কসাই আলমগীর হোসেন ও সুমন হোসেনসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। সেখানে থাকা ভ্যানের উপর রাখা একটি মরা গরুসহ ভ্যান চালক আব্দুল্লাহকে আটকায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে থানা থেকে এস আই এমরান আলী গিয়ে জনতার কাছ থেকে আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করে।
এস আই এমরান আলী জানান, কাসই আলমগীর ও তার প্রধান সহযোগী সুমনকে আটকের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে জনতার হাতে আটক আব্দুল্লাহ তার ভ্যানে করে গরুটি ৫০০ টাকা ভাড়ায় বহন করে এনেছিল। ফলে তাকে স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গরুর প্রকৃত মালিক গাংড়া গ্রামের আনিচ নামের এক কৃষক।