
মোঃ আরাফাত হোসেন:
দলের নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।
মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, বিকেলে, মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের যৌথ কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, মানুষের ওপর কোনো অন্যায়-অত্যাচার করা যাবে না। বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যেমনটি মানুষের সাথে করেছিল। আওয়ামী লীগের সকল অপকর্ম, সকল দানবীয় কার্যকলাপ মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সে অবস্থান নিয়েছেন। তাই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গে দলের কোনো নেতা-কর্মীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না, আগামীতেও হবে না।
আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, ২৪’র গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে নবীন প্রভাতের আশার আলো ফুটে উঠেছে, সূচনা হয়েছে ফ্যাসিবাদমুক্ত ঐতিহাসিক বিজয়ের, এই বিজয় আমাদের ধরে রাখতে হবে। বিএনপি ও অঙ্গ-সহয়োগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদী অপশক্তি ও তাদের দোসররা এখনও ঘাপটি মেরে আছে সবখানে। তাই দেশ ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। দলীয় কোন বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। রক্তের দামে কেনা এই বিজয় আমাদের রক্ষা করতে হবে।
যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে একটি কঠিন পরীক্ষার নির্বাচন। নির্বাচনের ফলাফলের জন্য বিএনপি সব সময়ই জনসমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি চারবার দেশশাসন করেছে। বিএনপি গণমানুষের দল। ১৮ বছর ধরে দলটি ফ্যাসিস্ট মাফিয়া হাসিনার সীমাহীন জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেও বীরের মত লড়ে গেছে এ জাতির মুক্তির জন্য। ২৪’র গণ-অভ্যুত্থানে দূর্বিনীত স্বৈরাচার হাসিনার কবল থেকে এ দেশ ও জাতি মুক্তি পেয়েছে। তাই দেশের আপামর জনগণের দুঃখকষ্টে ভালবাসার হাত প্রসারিত করে সবাইকে দাঁড়াতে হবে। বিজয় আমাদেরই হবে ইনশাআল্লাহ। বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সমর্থনে বিএনপি আগামীতে সমষ্টিগত সুখময় ও কল্যাণকর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে। যে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর বীর উত্তম। যিনি স্বাধীনতা উত্তর তলাহীন ঝুঁড়ি উপমার দেশকে আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ দেশের সৌরভে-গৌরবে যাঁর অবদান অতুলনীয়।
যৌথ কর্মীসভায় সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির। সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। সঞ্চালনায় ছিলেন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক।
এসময় মাগুরা জেলা ও তার আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলার যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।