
স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার মাত্র কয়েকদিন পরই আবারও সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। লালমনিরহাটে এবার দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হলেন স্থানীয় সাংবাদিক হেলাল কবির।
রোববার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত সাংবাদিক হেলাল কবিরকে তার নিজ বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর করে। জানা যায়, বাসা থেকে বের করে নেওয়ার পর তাকে বেধড়ক লাঠি, রড ও লাথি-ঘুষি দিয়ে পেটানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা মুখে কাপড় বেঁধে ছিল, যাতে তাদের চিনতে না পারে কেউ। তবে হামলার আগে ও পরে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। হামলার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে সহকর্মী সাংবাদিকরা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন করায় তিনি হুমকি পেয়ে আসছিলেন।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং স্থানীয় প্রেসক্লাব নেতারা এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশ জানায়, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজসহ সব ধরনের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। দ্রুতই দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উল্লেখ্য, সাংবাদিকদের উপর এ ধরনের ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় দেশের সংবাদ মাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদকর্মীরা বলছেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কলম ধরার অপরাধে যদি সাংবাদিকদের জীবননাশের ঝুঁকি নিতে হয়, তবে গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তিই নড়ে যাবে।