
মোঃ আল মামুন, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) :
ময়মনসিংহের নান্দাইলে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে সেনাবাহিনীতে কর্মরত সৈনিক মোজাম্মেল হক (৩৫) হাতে-নাতে ধরা পড়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে নান্দাইল উপজেলার বীর কামাটখালী ও চর কামাটখালী গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১ নং বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বীর কামাটখালী গ্রামের আঃ কদ্দুছের ছেলে মোজাম্মেল হক সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তার সংসারে স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী নারী ১৩ নং চর বেতাগৈর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের চর কামাটখালী গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রী। ওই প্রবাসী সৌদি আরবে বসবাস করেন এবং তার ঘরে স্ত্রী-সন্তানসহ তিন সদস্যের পরিবার রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীর সঙ্গে মোজাম্মেলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে সন্দেহজনক আচরণের কারণে কয়েকজন তরুণ প্রবাসীর বাড়ির চারপাশে অবস্থান নেন। এ সময় তারা দেখেন ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ এবং লাইট নিভানো। ভেতর থেকে নারী ও পুরুষের ফিসফিসানি শুনে তারা দরজা খোলার জন্য চাপ দেন। পরে প্রবাসীর বৃদ্ধ পিতা দরজা খুলে দেন।
ঘরে প্রবেশ করেই তারা মোজাম্মেল হককে আধা-নগ্ন অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্থানীয় তরুণরা আটক করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে লোকজন ভিড় জমায়। একপর্যায়ে রাতের শেষ দিকে স্থানীয় মাতব্বর ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দুই ইউনিয়নের মধ্যে দরবার বসে।
কিন্তু দরবারের সিদ্ধান্তে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, দরবারে মোজাম্মেলের পরিবারের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু সেই টাকা ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবারকে না দিয়ে মাতব্বররা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। ফলে অপমানিত পরিবারটি কোনো ক্ষতিপূরণই পায়নি।
প্রবাসীর বৃদ্ধ পিতা গণমাধ্যমকে জানান—
“আমার বয়স হয়েছে, শরীরে আর শক্তি নাই। সম্পদও নাই। শুনেছি মাতব্বররা টাকা খেয়ে মোজাম্মেলকে নিয়ে গেছে। আমাদের কোনো পাত্তাই দেয় নাই। যে টাকা নিয়েছে, সবাই জানে, কিন্তু ভয় পেয়ে কেউ নাম বলছে না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রবাসীর অসহায় পরিবারকে প্রাপ্য বিচার থেকে বঞ্চিত করেছেন। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নাম প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছেন, টাকার বিনিময়ে এভাবে অপরাধকে আড়াল করা হলে সমাজে অনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বেড়ে যাবে।