
রানা মাহমুদঃ
গত ০২/০৭/২০২৫ ইং তারিখ রোজ বুধবার সকাল অনুমান ০৬:০০ ঘটিকার সময় দোহার থানার নয়া বাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এবং বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জনাব হারুন অর রশিদ ওরফে হারুন মাস্টার কে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে তার পরিবারের লোকজন দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত ঘটনায় নিহত হারুন মাস্টারের ভাই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে দোহার থানায় ০৭ জন এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-০৪, তারিখ-০৫/০৭/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/৩৪।
মামলাটি রুজু হওয়ার সাথে সাথেই ঢাকা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনিসুজ্জামান পিপিএম মহোদয় অত্যন্ত গুরুত্ব সাথে মামলাটি তদন্তপূর্বক হত্যার সাথে জড়িত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশক্রমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব তরিকুল ইসলাম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে দোহার থানার একটি চৌকস টিম তদন্তে নামে। উক্ত টিম সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা, পুলিশি কৌশল ও সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা পূর্বক গত ০৯-০৯-২০০২৫ ইং তারিখ চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এলাকা হতে হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী মোঃ শরীফ ওরফে শ্যুটার শরীফ(২৬) পিতা: মোঃআতালেব আলী, সাং- নতুন বান্দুরা, থানা- নবাবগঞ্জ ও আসামী ও তার সহযোগী ০২। মোঃ আল আমিন (২২), পিতা- মো: হান্নান মিয়া, সাং- আরিতা, থানা- দোহার, জেলা- ঢাকা দেরকে গ্রেফতার করেন। ধৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ কালে তাহারা ঘটনার সহিত জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ধৃত আসামীরাসহ সহযোগীরা মিলে দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনায় খুনিরা ঘটনাস্থল রেকি করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ধৃত আসামীদেরকে পুলিশ প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য আসামী মোঃ শরীফ ওরফে শ্যুটার শরীফ(২৬) এর বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলা ও মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা বিচারাধীন আছে। অপর আসামি মোঃ আল আমিন (২২) এর বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলা বিচারাধীন আছে।
গত ০৮/০৭/২০২৫ ইং তারিখে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী মহসিনকে এবং ১৪/০৭/২০২৫ ইং জিহাদ চোকদার ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলসহ গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। আসামী মহসিন ও জিহাদ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। এছাড়া অত্র মামলা তদন্ত কালে গত ইং ০৬/০৭/২০২৫ তারিখে অত্র মামলা এজাহার নামীয় ৬ নং আসামী ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হারুন মাস্টার হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট ০৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার সহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এর জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।