
পাবনা জেলা প্রতিনিধি:
মোঃ গোলাম মোস্তফা:
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চরভাঙ্গুড়া পূর্ব পাড়ায় অবশেষে ধরা পড়েছে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা জামাত নেতার ছেলে ও তার স্ত্রী। শনিবার (৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী সন্দেহজনক অবস্থায় তাদের আটক করে এবং পরে পুলিশে খবর দিলে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক ব্যক্তির নাম মোঃ ওমর ফারুক (৩৫) এবং তার স্ত্রী মোছাঃ স্বপ্না পারভীন। ওমর ফারুক স্থানীয়ভাবে পরিচিত জামাত নেতা আবু হানিফের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে ওমর ফারুক ও তার স্ত্রী জামাতের নাম ব্যবহার করে এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে তারা গোপনে গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাত দ্রব্য সেবন ও বিক্রি করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দম্পতির ঘরে ও আশপাশে অপরিচিত লোকজনের যাতায়াত বেড়ে যায়। এতে এলাকাবাসীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। শনিবার রাতে তাদের সন্দেহজনক আচরণ দেখে এলাকাবাসী ঘেরাও করে। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে মাদক পাওয়া গেলে জনগণ তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে দম্পতিকে আটক করেন। তিনি জানান,
“ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় জনগণ পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এলাকার এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে এই দম্পতির কারণে এলাকা অশান্ত ছিল। অবশেষে তাদের গ্রেপ্তার হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। আশা করি প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যেন শুধু এই দম্পতিকে নয়, তাদের সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনে। তাদের মতে, ওমর ফারুক ও তার স্ত্রী জামাতের নাম ব্যবহার করে অনেক তরুণকে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে।
বর্তমানে ভাঙ্গুড়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে এবং আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে।
পাবনা জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন সহযোগীর নাম পাওয়া গেছে, যাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।