
বাবলু শেখ রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ী সদর উপজেলা চন্দনী ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে দিন দিন বেড়ে চলছে তামাক চাষ, আবুল খায়ের কোম্পানি ও ব্রিটিশ টোবাকো কোম্পানির প্রতিনিধি দিনরাত ছুটে চলছে কৃষকদের নিকট, টোবাকো কোম্পানির প্রতিনিধিরা নগদ টাকা সার ওষুধ সহ প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের নিকট গিয়ে পরামর্শ প্রদান সহ তামাক চাষে উৎসাহ দিয়ে কৃষকদের তামাক চাষে আগ্রহ তৈরি করছে কোম্পানির প্রতিনিধিরা ।
অধিক লাভের আশায় চাষিরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে তামাক চাষে , এতে নারী পুরুষ শ্রমিক রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে,শিশু শ্রমিকরা রয়েছে মৃত্যুর ঝুঁকিতে । কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা প্রতিনিয়ত প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের নিরুৎহিত করলেও কোম্পানির প্রতিনিধিদের উৎসাহিত্যের কারণে দিন দিন বেড়েই চলেছে তামাক চাষ ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জনি খান বলেন আমরা কৃষকদের নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা উঠান বৈঠক ও পরামর্শ অব্যাহত রেখেছি, প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে চাষীদের নিরুৎহিত করা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে । এ বছর রাজবাড়ী সদর উপজেলায় পরিসংখ্যানে দেখা যায় পাঁচ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে, আমরা নিরুৎ সাহিত করলেও কোম্পানির প্রতিনিধিরা কৃষকদের উৎসাহিত করছে, যাতে করে কৃষকরা অধিক লাভবান হওয়ায় তামাক চাষে বেশি আগ্রহ হচ্ছে ।
চন্দনী ইউনিয়নের হরিণদাড়া গ্রামের তামাক চাষী মোঃ লুৎফর রহমান বলেন এক বিঘা জমিনে ৪০ হাজার টাকা খরচ মূল্যে,১ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে বিক্রয় হয়, অধিক লাভের কারণে আমরা তামাক চাষ করে থাকি এ বিষয়ে সব ধরনের পরামর্শ সহ সহযোগিতা করে থাকেন আবুল খায়ের ও ব্রিটিশ টোবাকো কোম্পানির প্রতিনিধিরা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় নারী-পুরুষ সহ শিশু শ্রমিকরা তামাক চাষে কাজ করছে, মানা হচ্ছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি শিশুদের রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ।
হরিণ দাড়া গ্রামের মোঃ আমিন সরদার বলেন, আমি একজন দিনমজুর তামাক চাষের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় কাশি শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রগে আক্রান্ত হয়েছি আমি , এই এলাকায় তামাক চাষের কাজ করতে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন বলে আমিন সরদার সহ একাধিক এলাকাবাসী বিষয়টি নিশ্চিত করেন ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন টাস্কফোর্স কমিটির সদর উপজেলার সদস্য সচিব ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রহমত আলী বলেন বাংলাদেশের শত কারা ৭১ পার্সেন্ট মানুষ অসংখ্য মখ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে, যার বেশিরভাগ রোগ হয়ে থাকে তামাক জনিত কারণে,ক্যান্সার স্টক ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে থাকে মানুষ , তামাক চাষ বন্ধের আইন না থাকায় চাষীদের নিরুৎসাহিত করা সহ সচেতন হওয়ার পরামর্শ এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ।
তিনি আরো বলেন বড়দের চাইতে ও শিশু শ্রমিকদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে, তামাকের কারণে গর্ভবতী নারীদের গর্ভের বাচ্চা বিকলঙ্ক হতে পারে। তামাক চাষ বন্ধের বিষয়ে সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার পরামর্শ এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অস্বাভাবিক মাত্রায় তামাক চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক পরামর্শ সহ বন্ধ করার কি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চাইলে, রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপমা রায় এ বিষয়ে ক্যামেরায় বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন।