
মানজারুল ইসলাম:
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) আবারও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায়। মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (লাইসেন্স) জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, লাইসেন্স ইস্যু, ড্রাইভিং টেস্ট, গাড়ি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবায় প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও গাড়িচালকরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মেকানিক থেকে এডি: প্রশ্নবিদ্ধ উত্থান
সূত্র জানায়, জিয়াউর রহমানের কর্মজীবন শুরু হয় বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ে একজন সাধারণ মেকানিক হিসেবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সুপারিশ ও প্রভাবের মাধ্যমে ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হন। নরসিংদীতে কর্মরত অবস্থায় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রভাবশালী সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান-এর সুপারিশে তাকে মিরপুর বিআরটিএতে সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে পদায়ন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তখন ওই পদে আরেকজন কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তাকে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন,বিআরটিএর একজন বেতনভুক্ত কর্মকর্তার আয়ের সঙ্গে তার জীবনযাপনের দৃশ্যমান অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র মতে, তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এফ ব্লকে একটি অভিজাত বাড়িতে বসবাস করছেন। এছাড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ-১৬-১৪১৭) ব্যবহার করেন—যার অর্থের উৎস নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না’কোন কাজ? মিরপুর ও খিলক্ষেত এলাকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কাজ সম্পন্ন হয় না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন,তার ক্ষমতা ও প্রভাব এতটাই বেশি যে, অনেকেই অভিযোগ করতেও সাহস পান না।আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক কর্মকর্তা আত্মগোপনে গেলেও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্তের করে বিআরটিএর মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনিক দুর্বলতা, দীর্ঘমেয়াদি পদায়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন,লাইসেন্স বা গাড়ির কাগজ করতে গিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়। অনিয়ম বন্ধ হলে সেবা সহজ ও দ্রুত হতো। আসলে কিভাবে হবে তার পাশে ডানে আর বামে থাকে তারা তাদের মাধ্যমেই সবকিছু সমাধান হয়ে যায়।অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অনেকে। তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। দূর থেকে যারা পরীক্ষা দিতে আসে তাদেরকে লিখিত কিংবা প্র্যাকটিক্যাল অনেক সমস্যা দেখায় আপনি ফেল করেছেন হবে না পরবর্তীতে এসে দেখা করবেন। যদি বেশি টাকার অংক বলা হয় তখন তার কাছে সবকিছু পানির মতন সমাধান।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা হুবহু প্রকাশ করা হবে।