
মো: রাজ হাওলাদারঃ
মোংলা নদী পারাপারের একমাত্র প্রধান মাধ্যম খেয়া ঘাটে পন্টুন বা স্থায়ী ঘাট না থাকায় চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বিশেষ করে প্রতিদিন মোংলা ইপিজেডে কর্মরত হাজারো শ্রমিক-কর্মচারী এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জোয়ার-ভাটায় নদীর পানি ওঠা-নামা করায় নৌকায় ওঠা বা নামার জন্য কোনো সুব্যবস্থা নেই। কাদা ও পিচ্ছিল পথ মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় উঠতে গিয়ে প্রায়ই পা পিছলে নদীতে পড়ে যাচ্ছেন যাত্রীরা। এতে অনেকের হাত-পা ভেঙে যাওয়াসহ গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে মোংলা খেয়াঘাটে । সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন ইপিজেডের কর্মীরা। কারখানায় প্রবেশের নির্দিষ্ট সময় থাকায় তাড়াহুড়ো করে নৌকায় উঠতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, পন্টুন না থাকায় নৌকায় উঠতে গিয়ে অনেকেই নিচে পড়ে গিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, আবার কারো স্মার্টফোন বা সাথে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র নদীতে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে খেয়া পারাপারে অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত যাত্রী চাপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
শ্রমিকরা আরো বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এত মানুষ আহত হলো, তারপরও কর্তৃপক্ষের কোনো স্থায়ী সমাধান নেই।
এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌর প্রশাসক শারমীন আক্তার সুমি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পারাপার ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই শৃঙ্খলা আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর ভোগান্তি লাঘবে সরকারি খাত থেকে এক কোটি টাকার অনুদান বরাদ্দ আনা হলেও তার কোনো সুফল পাচ্ছে না মোংলাবাসী। হিউম্যান রাইটস সোসাইটির মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ মনিরুজ্জামান ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় এই বিশাল অংকের অনুদান এনে দিলেও রহস্যজনক কারণে এখনো ঘাটের কাজ শুরু হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দের এই টাকা দীর্ঘ দিন ধরে পৌরসভার অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষ পন্টুন স্থাপনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মোংলা খেয়া ঘাটে একটি আধুনিক পন্টুন বা স্থায়ী সিঁড়ির দাবি জানানো হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় তা ফাইলবন্দি হয়ে আছে। বরাদ্দের টাকা থাকা সত্ত্বেও কেন কাজ শুরু হচ্ছে না, তা নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও ইপিজেড কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ইপিজেড শ্রমিকদের দাবি, বড় কোনো প্রাণহানি ঘটার আগেই যেন পৌরসভার অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকার সঠিক ব্যবহার করে দ্রুত এই ঘাটে পন্টুন বা স্থায়ী পাকা সিড়ি
স্থাপন করা হয়। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন মোংলা বাসী ও শ্রমিকরা।