সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আ’ট’ক পাঁচবিবিতে ওসির অ’ভি’যা’নে মা’দ’ক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬০ বোতল ফা’য়া’র’ডি’ল উ’দ্ধা’র কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অ’ভি’যা’নে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উ’দ্বা’র কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অ’ভি’যা’নে ২৩৫০ ভারতীয় বাজিসহ গ্রে’প্তা’র-১৬ ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে দলীয় মনোনয়ন পেলে উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করার প্রত্যয় শাহ আলমের কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কু’পি’য়ে হ’ত্যা, ছেলে আ’ট’ক বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অ’ভি’যা’ন পরিচালনা করে ৩২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ০১ টি কষ্টি পাথর সদৃশ্য মূল্যবান পাথরের মূ’র্তি আ’ট’ক ন‌ওগাঁর পোরশায় ট্যা’পে’ন্টা’ড’লসহ দুই মা’দ’ক কারবারি আ’ট’ক নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁ’জা’সহ একজন গ্রে’প্তা’র

ঝালকাঠিতে সরকারি আবাসনে থাকা পরিবারগুলোর মানবেতর জীবনযাপন।

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঝালকাঠি উপজেলার ১নং গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালিঘোনা এলাকায় ২০০২ সালে নির্মিত হয় সরকারি আবাসন প্রকল্প। এরপর সেখানে বসবাসের সুযোগ পান ১০০ ভূমিহীন পরিবার। সরকারি আবাসনে পাঁচ থেকে ছয় বছর ১০০ ভূমিহীন পরিবার তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে কাঁটান। এরপর আস্তে আস্তে সরকারি আবাসনটির ঘরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। সরকারিভাবে আবাসনটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম দুর্ভোগ সহ্য করতে না পাড়ায় গত ৫ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০ টি পরিবার সরকারি আবাসন ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যান। বর্তমানে আবাসনে থাকা ৫০ থেকে ৬০টি পরিবারের অন্য কোথাও বসবাসের সুযোগ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দূর্ভোগের মধ্যে কষ্টের জীবনযাপন করছে।

ঝালকাঠি উপজেলার ১ নং গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালিঘোনা এলাকার ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিন্নমূল পরিবারের জন্য ২০০২ সালে আবাসন, আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। খাস জমির ওপর থাকার ঘর নির্মাণ করে সুফলভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বহুমূখী প্রকল্প হাতে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও কিছুদিন পরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম না হলেও শীত মৌসুমে তীব্র ঠান্ডা ও হিমেল হাওয়া এবং শিশির বিন্দু ঘরে প্রবেশ করায় কষ্টের জীবন কাঁটছে। সরকারি আবাসনের প্রতিটি ঘরের চাল ও টিনের ব্যাড়ায় বড় বড় ছিদ্র হয়েছে। প্রতিটি রুমে বৃষ্টির পানির মতো শিশির বিন্দু পড়ে বিছানাপত্র ও আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে এ দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

প্রায় ১৮ থেকে ১৯ বছর আগে নির্মাণ করা এসব ঘর সংস্কার না করায় টিনের ছাউনি ফুটো হয়ে গেছে। ফলে সামন্য বৃষ্টি হলে ঘরের ভিতর পানি পড়ে। কেউ কেউ বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে টিনের ওপর পলিথিন দিয়ে রেখেছেন। প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি টিউবওয়েল ও একটি টয়লেট নির্মাণ করা হলেও সংস্কারের অভাবে তা ব্যবহারের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ পলিথিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে কাঁচা টয়লেট বানিয়ে তা ব্যবহার করছেন। ফলে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি হুমকির মুখে। শত কষ্টের পরেও এখানকার ভূমিহীন পরিবারগুলো দিনের পর দিন নিরুপায় হয়ে দিন কাটাঁচ্ছেন। যেন দেখার কেউ নেই। একই চিত্র উপজেলার ভাউকাঠি, রমজানকাঠি, আবাসনগুলো।

আবাসনে থাকা আসমা (৪৫) জানান, ৫ বছর আগে আমার স্বামী ১ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখে মারা যান। অনেক কষ্টে মানুষের বাড়িতে কাজ-কাম করে দুই সন্তানকে মানুষ করেছি। অভাবের কারণে ছেলে-মেয়েকে পড়াশুনা করাতে পারিনি। কোন রকমেই মেয়েটার বিয়ে দিয়েছি। এখন ছোট ছেলেটাকে নিয়ে এই ভাঙ্গা আবাসনেই কোনো রকমে খেয়ে-না খেয়ে বেঁচে আছি। স্বামীর মারা যাওয়ার ৫ বছরও জোটেনি বিধবা ভাতা। ছেলেটা চায়ের দোকানে থেকে ১৫০ টাকা আয় করেন। আমিও মাঝেমধ্যে মানুষের বাড়িতে কাজ-কাম চলছে জোড়াতালির সংসার।

দেলোয়ার মোল্লা (৬৫) ও রাজেআলী (৫৫) বলেন,আমাদের থাকার কোন জমিজমা নেই। তাই সরকারি ভাবে এই আবাসনে থাকার সুযোগ মেলে। আবাসনটি নির্মানের প্রায় ১৯ বছর হয়েছে। এখন কোন ভাবেই থাকার উপযোগী নয়। নেই টয়লেট ,টিউবওয়েল বেড়াচাটি সব কিছুই নষ্ট হয়েছে। গত ৫ থেকে ৭ বছরে অধিকাংশ পরিবার আবাসন থেকে চলে গেছে। আমাদের কোথাও কোন থাকার ব্যবস্থা না থাকায় পলিথিন দিয়ে শত কষ্টের মাঝেও এখানেই পড়ে আছি। আমরা সরকারের কাছে ভাঙ্গা চুড়া আবাসনটির সংস্কারের জন্য জোড় দাবী জানাচ্ছি।

বালিঘোনা আবাসনের সভাপতি মোক্তার আলী জানান, আজ থেকে ১০ বছর ধরে আবাসনটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের যোগযোগ করেছি। প্রতিশ্রুতি দিলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে আবাসনের ঘরগুলো অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিটি টিনের চাল ফুটো হয়েছে। টয়লেটের ঘরগুলোর টিনও পঁচে গেছে। বাধ্য হয়ে বৃষ্টি ও শীত থেকে রক্ষা পেতে কোনো রকমেই টিনের চালে পলিথিন ও পলিথিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে কাঁচা টয়লেট বানিয়ে তা ব্যবহার করছি। ফলে আমাদের আবাসনবাসী স্বাস্থ্য ঝুঁকি হুমকির মুখে। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে গত ৫ থেকে ৬ বছর প্রায় ৫০ টি পরিবার চলে যান। আমরা সেই কাল থেকে আজও ৫০ থেকে ৬০ পরিবার জোড়াতালি দিয়ে কষ্টে জীবন পার করছি। তিনি দ্রুত এই আবাসনটি সংস্কারের জন্য সরকারের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

১ নং গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ কবির হোসেন জানান, আবাসনের অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক কষ্টে পরিবারগুলো বসবাস করছে। এলজিডি ও ত্রাণ অফিসসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে আবাসনটি সংস্কারের জন্য লিখিত আবেদন জানানো হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park