
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শাহেদ আহমেদ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব ধানখালী জেলে পাড়ায় চম্পা রানী (২৬) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার পর এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত চম্পা রানী পূর্ব ধানখালী গ্রামের মৃত শ্রী রবি মন্ডলের কন্যা এবং পেশায় ইটভাটা শ্রমিক শ্রী শরোজিৎ মন্ডলের স্ত্রী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান ও মাত্র চার মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চম্পা রানী মানসিক বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। স্বজনদের ধারণা, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। বিশেষ করে বাবার মৃত্যুর পর থেকেই তিনি গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই অসংলগ্ন আচরণ করতেন।
নিহতের স্বামী শরোজিৎ মন্ডল জানান, স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসার আশায় কয়েকদিন আগে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, এর আগেও তিনি কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর চম্পা রানী ঘরের পাশে চালের আড়ার সঙ্গে নিজের শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন। গভীর রাতে চার মাস বয়সী শিশুকন্যার কান্নার শব্দে স্বামীর ঘুম ভেঙে যায়। পরে ঘরের ভেতরে স্ত্রীকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। স্বজনদের সহায়তায় দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ধারণা, দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতা ও বিষণ্ণতার কারণেই এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
এদিকে, মায়ের মৃত্যুর পর চার মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মাতৃহীন শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো জেলে পাড়ার পরিবেশ।
স্থানীয় সচেতন মহল মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি পরিবার ও সমাজের বাড়তি যত্ন, সহমর্মিতা এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।