
শাহেদ আহমেদ
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সহোদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে হামলা, গোয়ালঘর ও মুরগির ঘর ভাঙচুর এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মে শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তারালী গ্রামের আব্দুল হামিদ কারিগরের ছেলে ফিরোজ আলম বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার সহোদর ছোট ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে সবুজ ও মাহবুব আলমের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন ভাড়াটিয়া লোকজন সংঘবদ্ধভাবে বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের হাতে ধারালো দা, শাবল ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তরা বাড়িতে ঢুকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা গোয়ালঘর ও মুরগির ঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। বাধা দিতে গেলে ফিরোজ আলমের স্ত্রী মিনান নাহারকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় প্যারালাইসিসে আক্রান্ত বৃদ্ধ পিতা আব্দুল হামিদ আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলেও কেউ এগিয়ে আসেননি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগী ফিরোজ আলম জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে বাংলাদেশ পুলিশ এর কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা ঘর ভেঙে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভাইদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল এবং বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে বিচারাধীন ছিল।
এ বিষয়ে আইনগত প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী ফিরোজ আলম কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানা গেছে।