
বাবলু শেখ রাজবাড়ী:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নং ফেরিঘাটে দ্বিতীয়বারের মতো বাসডুবির ঘটনা ঘটেছে,শুক্রবার ৫ ই জুন ২০২৬ সকাল ৭টায় কুষ্টিয়া মজমপুর এসবি পরিবহনের প্রধান কাউন্টার হতে ৪০ জন যাত্রী নিয়ে পরিবহন টি ঢাকা গাবতলীর উদ্দেশ্যে সেড়ে যায়, কুষ্টিয়া মজমপুর এস বি পরিবহনের কাউন্টার কতৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেন ।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মোঃ সালাউদ্দিন জানান কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি পরিবহন টি যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে উঠার উদ্দেশ্যে পল্টুনে অবস্থান করে, এসময় পরিবহনটি পল্টুন থেকে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামক ফেরিতে উঠতে গিয়ে ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে থাকা করবি নামের ফেরির পিছনে ধাক্কা দিয়ে রেম ভেঙে নদীতে পড়ে যায় ।
শুক্রবার ৫ জুন সকাল ৯ঃ২৭ মিনিটে ৭ নং ফেরিঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে, এ সময় খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন,রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস, ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস, গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের ডুবুরি দল ও বিআইডব্লিউটিসির উদ্ধারকৃত টিমসহ উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন, এতে গোয়ালন্দ থানা ও দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ সহ বিভিন্ন বাহিনী উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন ।
উদ্ধার অভিযানে এসবি পরিবহনের চালক ও সুপারফায়ার এবং সহকারী চালক কে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয় , দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস ঘটনাস্থলে দূরত্ব পৌঁছিয়ে উদ্ধার অভিযানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন ।
দীর্ঘ আড়াই ঘন্টার উদ্ধার অভিযানে এসবি পরিবহন টি নদী থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা সহ উদ্ধারকারীরা।
এসবি পরিবহন টিবেলা ১২:০০ টার দিকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়, উদ্ধারকৃত পরিবহনের মধ্যে কোন যাত্রী পাওয়া যায়নি এবং হতাহতর কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি,নিখোঁজ কোন স্বজনের দাবিকৃত ব্যক্তি পাওয়া যায়নি বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস ।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বলেন প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান, তিনি বলেন ধারণ ক্ষমতার অধিক লঞ্চে কোন যাত্রী না ওঠার নির্দেশনা প্রদান করেন, মোটর শ্রমিকদের আরও সচেতনতা ও গাড়ি ছাড়ার পূর্বে যান্ত্রিক ত্রুটি ভালোভাবে চেক করার নির্দেশনা প্রদান করেন , এবং ফিটনেস বিহীন গাড়ির বিষয়ে নিয়মিত মোবাইল কোড পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মোবাইল কোড পরিচালনা অব্যাহত রাখা হবে ।
এবং বাসডুবির ঘটনায় ৫ থেকে ৭ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে একইসঙ্গে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ।