
শাহেদ আহমেদ,
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকায় তাছফিয়া খাতুন (১৯) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও অর্থের দাবির জেরে তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শুক্রবার দুপুরে পাটকেলঘাটা থানার বাইগুনি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তাছফিয়া খাতুন ওই গ্রামের আলামিন দালালের স্ত্রী এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পরানদাহ গ্রামের সিদ্দিক আলী সরদারের মেয়ে।
নিহতের চাচী হাজিরা খাতুন জানান, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে আলামিনের সঙ্গে তাছফিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী, শাশুড়ি ও দেবরের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকালে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাছফিয়াকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়।
নিহতের বাবা সিদ্দিক আলী সরদার বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতো। এর আগে ট্রলি কেনার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়ের মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি প্রকৃত ঘটনা আড়াল করারও চেষ্টা চলছে বলে তার দাবি।
নিহতের ফুফু রোকসানা পারভিন জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মরদেহটি বাড়ির বারান্দায় দেখতে পান। এ সময় ঘরের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়। নিহতের স্বামী কখনও রশি, আবার কখনও ওড়না দিয়ে আত্মহত্যার কথা বলছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
রোকসানা পারভিন বলেন, “মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। কিন্তু গলায় ফাঁসের কোনো স্পষ্ট দাগ দেখতে পাইনি। এতে আমাদের সন্দেহ আরও বেড়েছে যে তাকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী আলামিন দালালকে এলাকায় দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।”
তবে আত্মহত্যার দাবি করা হলেও গলায় ফাঁসের কোনো সুস্পষ্ট চিহ্ন না থাকার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনই তাছফিয়া খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।