
শাহেদ আহমেদ,
সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দুইজনকে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বালুভর্তি দুটি বাল্কহেড (কার্গো বোর্ড) জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (১৫ জুন) সকালে উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর ঝাঁপার চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় বালুভর্তি দুটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজিব, পিএসসি’র নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এমবি হাবিব নামের দুটি কার্গো বোর্ডসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন— মো. ইব্রাহিম গাজী, মো. নাঈম ইসলাম, মো. আজারুল ইসলাম, মো. সজিব শেখ এবং মো. জাবিরুল ইসলাম।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পরিবেশ সংকটাপন্ন এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। অভিযানে জব্দ হওয়া এমবি হাবিব নামের বাল্কহেডের মালিক জামিরুল ওই চক্রের অন্যতম সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজিবি আরও জানায়, জব্দকৃত বাল্কহেড দুটিতে আনুমানিক ৫ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ হাজার ২০০ টাকা। পরে বাল্কহেডগুলো ব্যাটালিয়ন সদর পল্টন ঘাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেন, বুড়িগোয়ালিনী নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তদন্ত শেষে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর আওতায় মামলা নং-৩২/২৬ দায়ের করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্কহেডের চালক মো. নজরুল ইসলাম (পিতা: মৃত আফসার আলী, গ্রাম: দরগাহপুর, থানা: আশাশুনি, জেলা: সাতক্ষীরা)-কে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে তার সহকারী মো. আক্তারুল জামান (৩০) (পিতা: জিল্লুর গাজী, গ্রাম: রাড়ুলী, থানা: পাইকগাছা, জেলা: খুলনা)-কে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সাতটি পিভিসি পাইপ অপসারণ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
এ বিষয়ে নীলডুমুর ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজিব বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের আটক করা হয়েছে এবং জব্দ করা হয়েছে বালুভর্তি দুটি কার্গো বোর্ড। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ ও নদী রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”