
বাবলু শেখ রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ী কালুখালি উপজেলার মাদাপুর ইউনিয়নের জামায়াত কর্মী মোঃ আশাদুল ইসলাম এর হত্যার রহস্য উদঘাটন সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।
আশাদুল ইসলাম কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিল মানুষ মারি গ্রামের শাহাজানের ছেলে,আশাদুল ইসলাম মীর মোশারফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন,গত ১৪ জুন বিকেলে নিখোঁজ হলে ১৫ ই জুন সকালে খানপাড়া সূর্য দিয়া পাট ক্ষেত হতে অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ।
জামায়াত নেতা আশাদুল ইসলাম এর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটনসহ একই সঙ্গে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের কাউসার শেখের ছেলে মোঃ মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মণ্ডলের ছেলে মোঃ আনোয়ার মণ্ডল (৪৪) এবং সূর্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দীনের ছেলে মোঃ আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।
পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকারের নেতৃত্বে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় ।
তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৪ মাস আগে গ্রেপ্তারকৃত মিজান শেখের কাছ থেকে আশাদুল ইসলাম ৬৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ে সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।এর জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা আশাদুলকে হত্যা করে এবং পরে মরদেহে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ আরো জানায়, গ্রেপ্তার মিজান শেখ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
অভিযানের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি রক্তমাখা হেলমেট, একটি এসএস পাইপ (রড) এবং একটি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত আশাদুল ইসলাম স্থানীয় জামায়াত ইসলামের একজন কর্মী ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহজাহান মণ্ডল বাদী হয়ে কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত চলাকালে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন সহ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করায় পুলিশকে প্রশংসা করেছে স্থানীয়রা ।