
বিশেষ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গণপিটুনির শিকার হওয়া ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার সদস্যকে অপহরণচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দায়েরের পর ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন—ঢাকা ডিবি (দক্ষিণ) বিভাগের এসআই মামুন মাতুব্বর, এএসআই আমান উল্লাহ, কনস্টেবল কবির আহমেদ এবং কনস্টেবল আকাশ আহমেদ। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কর্মকর্তা অমিত হাসান সোনারগাঁওয়ের বারদী এলাকা থেকে আত্মীয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় যান। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অমিত হাসানের চিৎকারে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা গাড়িটির গতিরোধ করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে এসআই মামুন, এএসআই আমান উল্লাহ ও কনস্টেবল কবিরকে আটক করে বিক্ষুব্ধ জনতা মারধর করে। এ সময় গাড়িতে থাকা অন্য কয়েকজন সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা আটক ব্যক্তিদের আড়াইহাজার উপজেলার শান্তিনগর বাজার এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখানে আবারও তাদের মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে কনস্টেবল আকাশ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও অপহরণ ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা যথাযথ অনুমোদন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই অন্য জেলায় গিয়ে অভিযান পরিচালনার নামে এ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার ভুক্তভোগী অমিত হাসান বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় চার পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।