
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী,
নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রিসিলিয়েন্স (পার্টনার) কর্মসূচির আওতায় পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) উপজেলা পরিষদ হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জলঢাকার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। মূল প্রবন্ধ সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি। বিশেষ অতিথি উপজেলা জামায়াতের আমীর মোখলেছুর রহমান মাস্টার, জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য প্রভাষক ছাদের হোসেন, উপজেলা পৌর বিএনপি সাবেক সভাপতি রশিদুল ইসলাম বাঙ্গালী, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও প্রেসক্লাব জলঢাকার সভাপতি আলহাজ্ব কামারুজ্জামান, প্রেসক্লাব জলঢাকার সাধারণ সম্পাদক শাজাহান কবির লেলিনসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। কংগ্রেসে বক্তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি নতুন গতিশীলতা লাভ করবে। তিনি কৃষি ও পুষ্টি উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্বের বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি ও বহুমুখী উন্নয়ন কর্মসূচির ফলে দেশের কৃষি খাত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন, নারী ও যুব উদ্যোক্তা তৈরি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “পার্টনার” কর্মসূচি কৃষক, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং সরকারি কৃষি সেবাসমূহের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। কংগ্রেসটি কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং জলবায়ু সহনশীল গ্রামীণ অর্থনীতি গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।