
শাহেদ আহমেদ, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কমলাপুর এলাকায় পোল্ট্রি ফার্মের কর্মচারী রাফাতের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে নিহত রাফাতের স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহতের মা শাহানারা বেগম, চাচা আব্দুল লতিফ, রুহুল কুদ্দুস, রফিকুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম, আইনুল ইসলাম, নুর নাহার, শাইদা খাতুন, সুফিয়া খাতুন, ফরিদা খাতুন ও শরিফা খাতুনসহ অনেকে।
বক্তারা জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের শফিকুল সরদারের ছেলে রাফাত (১৯) আশাশুনির শীতলপুর গ্রামের আক্তারুজ্জামানের মালিকানাধীন কমলাপুর এলাকার একটি পোল্ট্রি ফার্মে কর্মরত ছিলেন। গত ১৩ জুন রাতে তিনি ফার্মের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফার্মের একটি রডের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় রাফাতের মরদেহ উদ্ধার করে।
রাফাতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, মরদেহে রক্তের দাগ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিশেষ করে অণ্ডকোষে রক্তাক্ত জখমের আলামত পাওয়া গেছে, যা হত্যার ইঙ্গিত বহন করে বলে তারা মনে করেন।
মানববন্ধনে নিহতের মা শাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হত্যা মামলা গ্রহণ ও তদন্ত কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে হত্যা মামলা রুজু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।