
শাহেদ আহমেদ, সাতক্ষীরা
ভারত সীমান্তবর্তী ভোমরা এলাকার বিভিন্ন চোরাপথ ব্যবহার করে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সাতক্ষীরায় প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব মাদক জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ফলে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল (কোরেক্স), বিদেশি মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের বিস্তারের পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ, ইভটিজিং ও অন্যান্য অপরাধও বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, সাতক্ষীরা শহরের বাস টার্মিনালসহ কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে অনেক ক্ষেত্রে হুমকির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের নিউমার্কেট মোড়, কামালনগর, বাঁকাল, ইটাগাছা-বাঙ্গালের মোড়, পলাশপোল, হাটের মোড়, সুলতানপুর, পুরাতন সাতক্ষীরা, রাজারবাগান, রসুলপুর, গড়েরকান্দা, চালতেতলা, আমতলা, মিলবাজার, মাগুরা, বিনেরপোতা, লাবসা, যুগরাজপুর, দেবনগর, মথুরাপুর, লাবসা বাইপাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মোবাইল ফোন ও অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমেও ক্রেতাদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একইভাবে ঝাউডাঙ্গা, গোবিন্দকাটি, তুজুলপুর, আলিপুর, বাদামতলা এবং পুরো ভোমরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের আড়ত গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এসব এলাকা থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারা যতই প্রভাবশালী হোক, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাদকবিরোধী কমিটির কয়েকজন সদস্য বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান এবং মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক নেতা অভিযোগ করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যকর তৎপরতার ঘাটতির সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে মাদকের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।