
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর মিরপুরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রতারণা, জালিয়াতি, চেক জাল করে মামলা দায়ের, ফ্ল্যাট আত্মসাতের চেষ্টা এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ চক্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন দৈনিক বাংলা ৭১ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, মিরপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান।মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে তিনি কথিত প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ কয়েকজন সদস্যের নাম এবং বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেন।প্রবাসীকে অর্থদাতা ও স্থানীয়দের মূল সমন্বয়কারী দাবি,লাইভে মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করেন, এই প্রতারক চক্রের মূল অর্থযোগানদাতা জাপান প্রবাসী মোঃ ইকরামুল হক। দেশে অবস্থানরত তার ভাই মোঃ রিয়াজুল হাসান অভি ওরফে মিথুনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রতারণা চালিয়ে আসছে।তার অভিযোগ, ব্যবসায়িক সংকটে থাকা বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের কাছে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে চেক, বায়না চুক্তি ও বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।চেক জালিয়াতির অভিযোগে ফরেনসিক রিপোর্টে মিলেছে প্রমাণ,ছিদ্দিকুর রহমানের দাবি, রিয়াজুল হাসান অভির অন্যতম সহযোগী মেসার্স এম এম ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোঃ মাজহারুল ইসলাম একটি এক লাখ টাকার চেকের অঙ্ক পরিবর্তন করে ৫১ লাখ টাকা লিখে মামলা দায়ের করেন।এ ঘটনায় দায়েরকৃত সি.আর মামলা নং-৪০৮/২০২২-এর তদন্তের স্বার্থে আদালত চেকটি বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার নির্দেশ দেন। ফরেনসিক প্রতিবেদনে চেকে জালিয়াতির আলামত পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।একাধিক রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে টার্গেট করার অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়, এই চক্রের কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছে সুন্দরবন তালুকদার বিল্ডার্স লিমিটেড
মাইশা এমএস প্রপার্টিজ লিমিটেড
আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।ছিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, বিনিয়োগের নামে চেক ও বায়না চুক্তি গ্রহণ করে পরবর্তীতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ীও একই কৌশলের শিকার,প্রতিবেদকের কাছে তিনি আরও দাবি করেন, কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী মোঃ শাহরিয়ার ও মোহাম্মদ আলীকেও একই কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সি.আর মামলা নং-৭৬৫/২০১৮ দায়ের করে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হচ্ছে।এছাড়া ডেভেলপার ফিরোজ,তালুকদার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধেও সি.আর মামলা নং-২৬৮/২০১৮-এ ২৫ লাখ টাকার চেক সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।একইভাবে মিরপুরের করওয়ালপাড়ার ব্যবসায়ী খানের তালুকদারের বিরুদ্ধেও সি.আর মামলা নং-২৬৩/২০১৮-এ ১০ লাখ টাকার মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।আল ফালাক রিয়েল এস্টেটকে এক কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রলোভন,সবশেষে আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. জাকারিয়াকে এক কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, এক কোটি টাকার চেক দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা বিনিয়োগের কথা বলে ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট দুটি ফ্ল্যাটের বায়না চুক্তি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়। পরে ব্যাংকে গিয়ে চেকের বিপরীতে পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়ায় বায়না চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলে উল্টো ফ্ল্যাট দাবি করে দেওয়ানি মামলা করা হয়।এ ঘটনায় এস. এম. জাকারিয়া বাদী হয়ে সি.আর মামলা নং-১৭৮/২০২৬ দায়ের করেন, যা বর্তমানে পিবিআই মিরপুর জোন তদন্ত করছে।দোকানঘর দখল ও মিথ্যা মানববন্ধনের অভিযোগ,ছিদ্দিকুর রহমানের অভিযোগ, এই চক্রের নজর পড়ে মিরপুর-১-এর সেকশন-১, ব্লক-জি, প্লট নং-১/১-এর একটি সম্পত্তির দিকে। সেখানে দুটি দোকানঘর জোরপূর্বক দখলে রেখে পরবর্তীতে উল্টো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।তিনি আরও দাবি করেন, এই চক্রে রাজু, মাসুম, হিটার সুমন এবং চোরাই সিএনজি বেচাকেনার কথিত হোতা জহিরুর হকসহ আরও কয়েকজন যুক্ত রয়েছে।প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
লাইভে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি এবং আল ফালাক রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচ. এম. জাকারিয়াকে হত্যা এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ব্যবসায়ী মহলের দাবি, অভিযোগগুলো যেহেতু কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন, চেক জালিয়াতি এবং একাধিক মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে তারা মনে করেন।