সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আ’ট’ক পাঁচবিবিতে ওসির অ’ভি’যা’নে মা’দ’ক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬০ বোতল ফা’য়া’র’ডি’ল উ’দ্ধা’র কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অ’ভি’যা’নে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উ’দ্বা’র কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অ’ভি’যা’নে ২৩৫০ ভারতীয় বাজিসহ গ্রে’প্তা’র-১৬ ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে দলীয় মনোনয়ন পেলে উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করার প্রত্যয় শাহ আলমের কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কু’পি’য়ে হ’ত্যা, ছেলে আ’ট’ক বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অ’ভি’যা’ন পরিচালনা করে ৩২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ০১ টি কষ্টি পাথর সদৃশ্য মূল্যবান পাথরের মূ’র্তি আ’ট’ক ন‌ওগাঁর পোরশায় ট্যা’পে’ন্টা’ড’লসহ দুই মা’দ’ক কারবারি আ’ট’ক নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁ’জা’সহ একজন গ্রে’প্তা’র

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার বাড়ছে, অভিযোগ ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১২১ বার পঠিত

জেলা সদর থেকে সীমান্ত—ডিবি, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার; সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গণআন্দোলনের উদ্যোগ।

মোঃ মাসুদ বিপ্লব ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :

ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), থানা পুলিশ, র‍্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ধারাবাহিক অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং একাধিক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, খুচরা পর্যায়ের কারবারিরা ধরা পড়লেও মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের অনেকেই এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব-সংলগ্ন এলাকা, মুন্সিপাড়া, আটগ্যালারী গবিন্দনগরসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধেও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী গণআন্দোলন গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারণা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বর্তমান মাদক পরিস্থিতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক অভিযানের মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীর নাগরভিটা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ২ হাজার ৫৫০টি ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকার বেশি। রুহিয়া থানার ঘনিমহেশপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিকাশ ঘোষের কাছ থেকে ১৬০টি ইয়াবা ও নগদ ২২ হাজার টাকা জব্দের দাবি করেছে পুলিশ। একই সময়ে বালিয়াডাঙ্গীর তেরকানিয়া এলাকায় ডিবি পুলিশের অভিযানে মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে ৫৬টি ইয়াবা উদ্ধার করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভাউলারহাট-শিবগঞ্জ মোড় এলাকা থেকে ২৯টি ইয়াবাসহ আরজিনা বেগম নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ রাজা হাসান রাজু ও রাফায়েল হাসান হৃদয় নামে দুই মামা-ভাগিনাকে গ্রেপ্তার করে।
সদর উপজেলার পূর্ব গোয়ালপাড়া (তেলিপাড়া) এলাকায় কাওসার আলীর কাছ থেকে ১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং শহরের ফকিরপাড়া ব্রিজ এলাকায় আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে পাঁচটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ১৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। রুহিয়ার ধর্মপুর গ্রামে ডিএনসির অভিযানে সুজন আলী জুয়েলের কাছ থেকে ৩১টি ইয়াবা উদ্ধার করে তাকে আটক করা হয়।
এছাড়া সদর উপজেলার ডারাপাড়া এলাকায় র‍্যাব-১৩-এর বিশেষ চেকপোস্টে একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে ৬৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং দুই আন্তঃজেলা মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব জানায়, গাঁজাগুলো বিশেষ কৌশলে গাড়ির ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে আরও ইয়াবা, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার এবং একাধিক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলায় তুলনামূলকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান কম হওয়ায় ওই এলাকাগুলোতেও আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, একটি বিশেষ চক্র রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিছু মাদক কারবারিকে রক্ষা করছে এবং মাসোহারার বিনিময়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে শোনা গেলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সীমান্তঘেঁষা জেলায় মাদক চোরাচালান রোধে সাম্প্রতিক অভিযান ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। তবে শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা, অর্থের জোগানদাতা ও চোরাচালান চক্রকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং মাদক কারবারি ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park