
সুমন খান:
রাজধানীর মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দালালচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করেছে মোবাইল কোর্ট। এ সময় আটক দুজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর চারজনকে মোট ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।আজ রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে মোবাইল কোর্ট আদালত-৬-এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।অভিযানকালে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মো. শওকত আলী (৫৬) ও মো. সুজন (৩০)-কে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া অপর চারজনকে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ রয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্রসহ বিভিন্ন সেবা দ্রুত করে দেওয়ার কথা বলে একটি চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, বিআরটিএর নির্ধারিত ফি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেকে পরিষ্কারভাবে না জানায় দালালরা তাদের টার্গেট করে। কেউ কেউ সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারি সেবা গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, দালালচক্রের সঙ্গে কোনো অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য কারও যোগসাজশ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতার, বিআরটিএর সেবা কার্যক্রম আরও ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি অফিসের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো গেলে দালালদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেবাগ্রহীতারা যেন সরাসরি নির্ধারিত নিয়মে সরকারি সেবা নিতে পারেন, সে জন্য দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দালালচক্রের পেছনে কারা রয়েছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।মিরপুর বিআরটিএতে রোববারের এই অভিযানে ছয়জনকে আটক ও সাজা দেওয়ার ঘটনা দালালবিরোধী কার্যক্রমে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চারজনকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার তথ্য দেওয়া হলেও তাদের নাম ও পৃথক জরিমানার পরিমাণ আপনার সরবরাহ করা তথ্যে নেই। তাই প্রতিবেদনে অনুমান করে নাম বা অঙ্ক যোগ করা হয়নি।