বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
চমক থাকছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতে: আলোচনায় সাইফুল আলম নীরবসহ একাধিক নেতা পানিতে ডুবে মারা গেছে জনপ্রিয় ক্ষুদে কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীপ শীল নীলফামারী জলঢাকায় ট্রাক-চার্জার ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভ্যানচালক নিহত, আহত ১ ব্রাহ্মণপাড়ায় একদিনে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার-৯ কুমিল্লায় আল্লামা নুরুল হকের জানাজায় লাখো মুসল্লি, চৌদ্দগ্রামে দাফন পার্বতীপুরে লায়ন্স সেবা মাস উপলক্ষে গরীব ও দুঃস্থদের বিনামূল্যে লেন্স সংযোজন ভবন নির্মাণে বিধি ভাঙলে আইনি ব্যবস্থা: গণপূর্তমন্ত্রী নওগাঁর নিয়ামতপুরে বাহাদুরপুর ইউনিয়নে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে উন্মুক্ত অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রী হবিগঞ্জে উদ্ধার: বাড়ি ছাড়ার নেপথ্যে অনলাইন পরিচয় কুমিল্লা দাউদকান্দিতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার-৭

টাকা ছাড়া মেলে না সেবা!’ অভিযোগের শীর্ষে নিয়ামতপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯০ বার পঠিত

মোঃ দেলোয়ার হোসেন শিমুল,
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর নিয়ামতপুর জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, আবেদন নিষ্পত্তিতে গড়িমসি ও বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অর্থ দাবির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, নতুন বিদ্যুৎ মিটারের আবেদন থেকে শুরু করে বিদ্যুতের লোড বৃদ্ধি ও মিটার স্থানান্তর—বিভিন্ন সেবা পেতে তাঁদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অফিসটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মেসবাহুল হক ও ওয়ারিং ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনলাইনে নতুন মিটারের জন্য আবেদন করার পর বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে তা বাতিল করা হয়। তবে নির্দিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে পুনরায় আবেদন করলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভবনে একাধিক মিটার অনুমোদন এবং ছোটখাটো ত্রুটির অজুহাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ দাবির অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পাঁড়ইল ইউনিয়নের ধানসা মসজিদ কমিটির পক্ষে আমানউল্লাহ জানান, মসজিদে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) স্থাপনের জন্য বিদ্যুতের লোড বৃদ্ধির আবেদন করা হয় প্রায় তিন মাস আগে। একবার পরিদর্শন করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
আমানউল্লাহ আরও জানান, এ বিষয়ে ডিজিএম মেসবাহুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওয়ারিং ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও আবেদনটির অগ্রগতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে মসজিদ কমিটি।
অন্যদিকে, কাওসার নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তাঁর নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুৎ মিটার আবাসিক ব্যবহারের উপযোগী স্থানে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করলে ওয়ারিং ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম তাঁর কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
কাওসার জানান, বর্তমানে আবাসিক কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও তাঁকে বাণিজ্যিক হারে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে এজিএম (কম) মহাই মিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও অর্থ দাবির মতো অভিযোগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাঁদের দাবি, নতুন মিটার সংযোগ, বিদ্যুতের লোড বৃদ্ধি ও মিটার স্থানান্তরসহ সব ধরনের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, মিটার অনুমোদন ও আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া যাচাই এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং গ্রাহকদের জন্য হয়রানিমুক্ত বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park